নিউজপোল ব্যুরো: তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ হিসেবে কয়েক মাস কাটতেই এবার শিবির বদলে পদ্মের টিকিটে ফের রাজ্যসভায় যাওয়ার পথে অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা, তারপর বিজেপিতে যোগ—একেবারে নাটকীয় মোড়ে বদলে গেল তাঁর রাজনৈতিক ঠিকানা। অর্থাৎ তৃণমূলের হয়ে রাজ্যসভায় যাওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই এবার বিজেপির প্রার্থী হিসেবে সংসদের উচ্চকক্ষে ফেরার পথে অভিনেত্রী-রাজনীতিক কোয়েল।
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর কোয়েল বলেন, ‘আপার হাউস’-এর সদস্য হওয়ার সুযোগকে তিনি বড় দায়িত্ব হিসেবেই দেখছেন। দেশের মানুষের কল্যাণ ও সেবার কাজ আরও বড় পরিসরে করার সুযোগ পেয়েছেন বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং শুভেন্দু অধিকারীর নামও উঠে আসে। বাংলার উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান নিয়েও নিজের বক্তব্য রাখেন কোয়েল। তাঁর দাবি, গত কয়েক মাসে রাজ্যে উন্নয়নের কাজ শুরু হওয়ায় তিনি খুশি। বাইরে চলে যাওয়া বাংলার তরুণ-তরুণীদের জন্য রাজ্যেই আরও সুযোগ তৈরি করার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি। তাঁর কথায়, বাংলার মানুষ যেন ভালো থাকেন এবং কাজের সুযোগ আরও বাড়ে—এটাই তাঁর লক্ষ্য।
কোয়েলের রাজনৈতিক পথবদল অবশ্য নতুন করে চর্চা তৈরি করেছে। চলতি বছরের এপ্রিলেই তৃণমূল কংগ্রেসের মনোনয়নে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই ১৬ জুলাই রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেন। সেই আসনেই আগামী ১৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হওয়ার কথা। এবার সেই আসনের জন্যই বিজেপি তাঁকে প্রার্থী করেছে। তৃণমূল সম্পর্কে অবশ্য সরাসরি কোনও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করতে চাননি কোয়েল। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলির মতাদর্শ আলাদা হলেও তাঁর কাছে মানুষের সেবা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ দলবদল নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যে নিজের বক্তব্যকে ব্যক্তিগত কাজ এবং মানুষের উন্নয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
এদিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ‘ফুল বদল’ নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা কটাক্ষ ও মিম ছড়িয়েছে। তবে কোয়েল জানিয়েছেন, এসব নিয়ে তিনি মাথা ঘামাতে চান না। মনোবিজ্ঞানের ছাত্রী হিসেবে তাঁর বক্তব্য, অন্যকে ছোট করা বা অপমান করার মধ্যে যারা আনন্দ খোঁজেন, তাঁদের প্রতি তাঁর কোনও রাগ নেই। বরং তাঁদের মানসিক সুস্থতা কামনা করেন তিনি। এবার বিজেপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর তাঁর নতুন রাজনৈতিক ইনিংস কোন দিকে যায়, নজর সেদিকেই।
