নিউজ পোল ব্যুরো: ভ্রমণপিপাসু বাঙালির কাছে ছুটির দিন মানেই দিঘা–পুরী–দার্জিলিংয়ের মতো পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রে বেড়াতে যাওয়া। তার মধ্যে দিঘা (Digha) দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকত—দু’দিনের অবকাশে অনেক পরিবারই ব্যাগ গুছিয়ে হাজির হন এখানেই। তবে গত কয়েকমাসে দিঘার (Digha) পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে চোখে পড়ার মতো। সমুদ্রসৈকতের ভিড় এখন ছাপিয়ে যাচ্ছে একেবারে ধর্মীয় ভক্তসমাগমে। কারণ দিঘা এখন শুধু পর্যটনকেন্দ্র নয়, দ্রুত পরিণত হয়েছে একটি তীর্থস্থানে—জগন্নাথ মন্দিরকে (Jagannath Temple) কেন্দ্র করে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বহু আগেই ঘোষণা করেছিলেন দিঘায় পুরীর ধাঁচে জগন্নাথ মন্দির (Jagannath Temple) তৈরির পরিকল্পনা। সেই ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও কম হয়নি। শেষ পর্যন্ত চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল, অক্ষয় তৃতীয়ার শুভ দিনে মুখ্যমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন করেন। পরের দিন থেকেই সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয় মন্দির। আর সেই মুহূর্ত থেকেই শুরু হয় ভক্তদের ঢল।
মন্দির কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য বলছে, গত ছ’মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ হাজার দর্শনার্থী জগন্নাথদেবের (Jagannath Temple) দর্শনে আসছেন। উৎসব বা বিশেষ তিথিতে এই সংখ্যা আরও বাড়ছে কয়েকগুণ। এমন বিপুল ভিড়ের ফলেই দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে (Jagannath Temple Digha) দৈনিক আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে উল্লেখযোগ্য অঙ্কে। ট্রাস্টি বোর্ডের অন্যতম সদস্য রাধারমণ দাস জানিয়েছেন, প্রতিদিন প্রণামী বাক্সেই নগদ জমা হয় কমবেশি ১ লক্ষ টাকা। অনুদান ও উপহার বাবদ আরও প্রায় ১ লক্ষ টাকা আসে। এর পাশাপাশি মন্দির-সংলগ্ন প্রসাদ বিক্রি থেকে দৈনিক আয় প্রায় ২ লক্ষ টাকা। সব মিলিয়ে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের (Jagannath Temple Digha) গড় দৈনিক আয় প্রায় ৪ লক্ষ টাকা।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
এত বিপুল দর্শনার্থীর কারণে দিঘার পর্যটনব্যবসা আরও গতিশীল হয়েছে। হোটেলগুলিতে আগের তুলনায় বুকিং বেড়েছে অনেকটাই, বেড়েছে রাতযাপনের সংখ্যা। শুধু হোটেল নয়, মন্দিরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ছোট দোকান—পূজা সামগ্রী, খাবার, সুভেনির থেকে শুরু করে স্থানীয় হাতে তৈরি জিনিস—সবকিছুর বিক্রি বেড়েছে চোখে দেখা যায়। মন্দিরে সেবা, নিরাপত্তা, সাফাইকর্মী, হাউস কিপিংসহ মোট প্রায় ১৭০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। অর্থাৎ জগন্নাথ মন্দির ঘিরে দিঘার (Jagannath Temple Digha) অর্থনীতি নতুনভাবে জেগে উঠেছে—ভক্তি, পর্যটন এবং আয়ের অনন্য সম্মিলনে।
