মহালয়ার ভোর মানেই বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রে সেই পরিচিত কন্ঠে ভেসে আসে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’। চারপাশ যখন ঘুমের আবেশে ঢাকা, বাতাসে শিউলির সুগন্ধ পুজো পুজো ভাব। সময় বদলেছে, বদলেছে প্রযুক্তি, হাতে হাতে পৌঁছে গিয়েছে স্মার্টফোন। তবু মহালয়ার সকালে পুরনো রেডিয়োর শব্দে যে আবেগ জড়িয়ে রয়েছে, তা আজও অনেক বাঙালির কাছে অমলিন।
এই আবেগের টানেই বর্ধমানের কার্জন গেটের কাছে বৈদ্যনাথ কাটরার গলিতে মহালয়ার আগে ব্যস্ততা বাড়ে রেডিয়ো মেরামতির দোকানে। গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে রেডিয়ো সারিয়ে আসছেন প্রবীণ কারিগর নিমাই মোদক। বয়স প্রায় আশির কাছাকাছি হলেও মহালয়ার আগে কাজের চাপ সামলাতে ব্যস্ত তিনি। মেমারি, রায়না, খণ্ডঘোষ, গলসি, কাটোয়া ও ভাতার-সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পুরনো রেডিয়ো নিয়ে তাঁর দোকানে হাজির হচ্ছেন মানুষ।
নিমাইবাবুর স্মৃতিতে এখনও উজ্জ্বল সেই দিনগুলি, যখন মহালয়ার এক মাস আগে থেকেই সারাইয়ের জন্য জমা পড়ত শতাধিক রেডিয়ো। সারারাত জেগে চলত কাজ। আজ সেই ব্যস্ততা অনেকটাই কমেছে। তাঁর কথায়, “সময় বদলেছে। হাতে হাতে মোবাইল, ইন্টারনেট। তবু এখনও রেডিয়ো সারাতে মানুষ আসেন।”
আসলে মহালয়া শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, শৈশব, পরিবারের সান্নিধ্য আর হারিয়ে যাওয়া দিনগুলিতে ফিরে যাওয়ার উপলক্ষ। তাই পুরানো রেডিয়োর সুইচ অন হতেই কোথাও যেন আবার ফিরে আসে ফেলে আসা জীবন। প্রযুক্তির ভিড়েও এই আবেগই প্রমাণ করে, কিছু স্মৃতির কোনও বিকল্প হয় না।
