শাখারভের ধারেকাছেও নেই হুমায়ুন? রাজনীতির মঞ্চে ধাক্কা খেয়ে তবে কি দেশ ও রাজনীতি—দুই থেকেই চিরবিদায়ের পথে হুমায়ুন কবীর?

breakingnews আইন দেশ রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: বঙ্গ রাজনীতিতে হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। কখনও তাঁর মন্তব্য, কখনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হয়েছে আলোচনা। কিন্তু রেজিনগর উপনির্বাচনের ফলের অঙ্ক সামনে আসতেই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে তাঁর রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে। যে কেন্দ্রে নিজের দলের শক্তি দেখানোর লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছিলেন তিনি, সেখানেই বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের ফলাফল ঘিরে বদলে গিয়েছে রাজনৈতিক আলোচনার সুর। ভোটের লড়াই যে শুধু মঞ্চের বক্তব্যে শেষ হয় না, শেষ পর্যন্ত তার হিসেব মেলে ইভিএমের ফলেই—এই বার্তাই যেন সামনে আনছে রেজিনগরের উপনির্বাচন।

নির্বাচনের আগে হুমায়ুন কবীর একাধিকবার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছিলেন। ভোটগ্রহণের দিনও অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি ছিল, কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকা সত্ত্বেও ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়া হয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ করেন তিনি। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, রেজিনগরের ভোটগণনায় বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের এগিয়ে থাকা বা জয়ের ব্যবধান ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। হুমায়ুনের দল দ্বিতীয় স্থানে থাকলে তা দলের সংগঠন, প্রচারের ধরন এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলতে পারে। তবে নির্বাচনের ফলের পাশাপাশি স্থানীয় ভোটারদের পছন্দ, প্রার্থীদের প্রচার এবং এলাকার বিভিন্ন ইস্যুও ফলাফল বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

হুমায়ুনের রাজনৈতিক যাত্রায় বাবরি মসজিদ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি এবং তৃণমূল ছেড়ে নতুন দল গঠনের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা নিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে উপনির্বাচনের ফল তাঁর দলের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনাকে আরও বাড়াতে পারে। ভোটের আগে দেওয়া বক্তব্য আর ভোটের বাক্সে পাওয়া সমর্থনের মধ্যে কতটা মিল থাকল, তা নিয়েই এখন চর্চা। রেজিনগরের উপনির্বাচন আরও একবার মনে করিয়ে দিল, রাজনৈতিক মঞ্চে জোরালো বক্তব্য থাকলেও শেষ কথা বলে ভোটের ফল। এবার হুমায়ুন কবীর তাহলে দেশ থেকে ও রাজনীতি দুটো থেকেই চিরবিদায় নেবেন তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।