নিউজপোল ব্যুরো: উপনির্বাচনের ফল ঘিরে শুক্রবার সকাল থেকেই সরগরম রাজ্য রাজনীতি। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রের ভোটগণনায় প্রাথমিক ট্রেন্ডে এগিয়ে বিজেপি প্রার্থীরা। নন্দীগ্রামে হাসিরানি রথের ব্যবধান ৩১ হাজারের গণ্ডি পেরিয়েছে বলে গণনার আপডেটে জানানো হয়েছে।
নন্দীগ্রামে চতুর্থ রাউন্ডের গণনা শেষে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ ৩১,৫০৬ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। এর আগে প্রথম রাউন্ডের গণনা শেষে তাঁর লিড ছিল ৯ হাজারের বেশি ভোট। গণনার পরবর্তী পর্যায়েও এই ব্যবধান বজায় থাকে কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। এই কেন্দ্রে কংগ্রেসের হয়ে লড়ছেন মিলন প্রধান। গণতান্ত্রিক তৃণমূলের প্রার্থী এহতেশামুল হক এবং সিপিএমের শান্তিগোপাল গিরিও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। রেজিনগরেও ভোটের অঙ্কে এগিয়ে বিজেপি। পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় রাউন্ড শেষে শাখারভ সরকার ৮,৮০১ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুল্লাহিল কাফি দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এর আগে প্রথম রাউন্ডের গণনায় বিজেপির লিড ছিল প্রায় সাড়ে ছয় হাজার ভোট। রেজিনগরে কংগ্রেসের পাশাপাশি লড়াইয়ে রয়েছেন AJUP-এর গোলাম নবী আজাদ, মমতা তৃণমূলের রবিউল ইসলাম, সিপিএমের সইদ আসাদ আলি এবং গণতান্ত্রিক তৃণমূলের শফিউজ্জামান শেখ।
দুই কেন্দ্রেই গণনা চলছে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে। রেজিনগরের গণনা হচ্ছে বহরমপুর গার্লস কলেজে, আর নন্দীগ্রামের গণনাকেন্দ্র কবি সুকান্ত সেকেন্ডারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। দুটি কেন্দ্রেই ইভিএমের গণনার জন্য দুটি করে হল রাখা হয়েছে। মোট ১৫ রাউন্ডে গণনা শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভোটের দিন দুই কেন্দ্রেই ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছিল বলে দেওয়া তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে। তবে ভোটের দিন বুথে অনিয়ম, এজেন্টদের বসতে না দেওয়া এবং ভোট পরিচালনা নিয়ে বিরোধীদের একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। কংগ্রেসের তরফে পুনর্নির্বাচনের দাবিও জানানো হয়েছিল। গণনার দিনেও সেই অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তবে অভিযোগগুলির সত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য সামনে নেই। শেষ পর্যন্ত নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ভোটের অঙ্ক কোন দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার।
