নিউজপোল ব্যুরো: দাবি আদায়ের লড়াই, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দীর্ঘদিন ধরেই এই সমস্ত আন্দোলনের সাক্ষী রাজধানী দিল্লি। সময় বদলেছে ,বদলেছে আন্দোলনের ধরন, প্রতিবাদের ভাষা। কিন্তু জনতার ক্ষোভ ও দাবি তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে যন্তর মন্তর। গত ৩৩ বছর ধরে এই জায়গা সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের অন্যতম প্রধান মঞ্চ হয়ে উঠেছে।
একসময় দিল্লির ইন্ডিয়া গেট সংলগ্ন বোট ক্লাবের মাঠ ছিল গণআন্দোলন ও জনসমাবেশের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে সেখানে জড়ো হতেন হাজার হাজার মানুষ। তবে সময়ের সঙ্গে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং প্রশাসনিক নিয়মের কারণে ওই এলাকায় বড় জমায়েতের সুযোগ কমতে থাকে। সেই পরিস্থিতিতে প্রতিবাদী সংগঠন, রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনের কাছে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে যন্তর মন্তর। রাজধানীর বুকে নিজেদের দাবি তুলে ধরার জন্য এই জায়গাকেই বেছে নিতে শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।
যন্তর মন্তরের পরিচিতি আরও ছড়িয়ে পড়ে ২০১১ সালে আন্না হাজারের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের সময়। লোকপাল বিল কার্যকর করার দাবিতে তাঁর অনশন দেশজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। তারপর কৃষক আন্দোলন,মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ,রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ আন্দোলন,দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রকাশের অন্যতম মঞ্চ হয়ে উঠেছিল এই এলাকা। পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতায় ১৯৯৩সালে এই জায়গাটি বিক্ষোভের প্রধান কেন্দ্রস্থল হয়ে ওঠে।
সংসদ ভবন ও দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় এই জায়গার রাজনৈতিক গুরুত্বও যথেষ্ট। সময়ের সঙ্গে যন্তর মন্তর হয়ে উঠেছে এমন এক মঞ্চ, যেখানে উপেক্ষিত মানুষের দাবি, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জাতীয় স্তরে পৌঁছনোর সুযোগ পায়। তাই ৩৩ বছরের আন্দোলনের ইতিহাসে এই এলাকা আজও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
