নিউজপোল ব্যুরো: দূর্গার দশভূজা সিংহবাহিনী রূপ আমরা দর্শন করি । মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জের গদাইপুর গ্রামের এক ব্যাতিক্রমী রূপে দেবী পুজিত হয়ে আসছে ।পায়ে লোহার শিকল, মুখে শাড়ির আঁচল আর প্রতিমার পেটে বিশেষ গড়নে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের আরাধ্যা দেবী ‘পেটকাটি দুর্গা’। প্রায় ৪২০ বছরের প্রাচীন এই পুজো। ভক্তি এবং রহস্যের সম্মেলনে বহু মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু এই পুজো।
স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, বহু বছর আগে দুর্গাপুজোর সময় এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পুরোহিতের কিশোরী কন্যা নিখোঁজ হয়ে যায়। পরবর্তীতে দেবীর স্বপ্নাদেশকে কেন্দ্র করে প্রতিমার পেট কাটার কাহিনি ছড়িয়ে পড়ে। সেই থেকেই দেবীর নাম হয় ‘পেটকাটি দুর্গা’। যদিও এই কাহিনীর কোনো ঐতিহাসিক সত্যতা নেই।
প্রতিমা তৈরিতেও রয়েছে এক বিশেষত্ব। গ্রামের পাশ দিয়েযে আখরি নদী বয়ে যায় তার তীরের মাটি দিয়েই গড়া হয় দেবীমূর্তি। প্রায় ৯ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৩ ফুট প্রস্থের প্রতিমার মাপ দীর্ঘদিন ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
শনিবার মহাসপ্তমীর সকালে ঘট ভরা, কলাবউ স্নান ও নবপত্রিকা স্নানের মধ্য দিয়ে এই পুজার শুরু ।সমস্ত শাস্ত্রীয় বিধি ও আচার অনুষ্ঠান মেনে এই পুজো করা হয়। সময় বদলালেও গদাইপুরের পেটকাটি দুর্গাকে ঘিরে মানুষের বিশ্বাস, আবেগ ও ঐতিহ্য আজও অটুট।
