সৌমেন ভট্টাচার্য, পুরী: পুরীর রথযাত্রা (Puri Rath Yatra ) মানেই ভক্তিভাব, আবেগ আর অপার ধর্মীয় মিলনের এক অনন্য উৎসব। এবছর ২০২৫ সালের ২৭ জুন, শুক্রবার ছিল রথযাত্রা। কিন্তু কোনও এক কারণে গড়ায়নি রথের চাকা। রথ কিছুটা গেলেও মূল মন্দির থেকেই বেরোতে পারেনি। শুক্রবার সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে রথের দড়ি টেনে লাখো ভক্তের উল্লাস থমকে গিয়েছিল। তবে আজ শনিবার সহোদর বলরাম ও সুভদ্রাকে সঙ্গে নিয়ে মাসির বাড়ি পৌঁছান জগন্নাথ দেব।
প্রভুর মাসির বাড়ি অর্থাৎ শ্রীগুন্ডিচা মন্দিরের উদ্দেশ্যে ফের শনিবার সকাল থেকেই শুরু হয় রথযাত্রা। তিনটি সুসজ্জিত বিশাল রথ—নন্দিঘোষ, তলধ্বজ ও দার্পদলন—বায়ুতে শঙ্খধ্বনি ও ঢাকের গর্জনের মাঝে এগিয়ে চলে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রথের দড়িতে হাত দিলে পুণ্যলাভ হয়, তাই লাখো মানুষ রথ টানতে ভিড় জমান রথপথে। শুক্রবার সেই ইচ্ছা পূরণ না হলেও শনিবারেও মানুষের উন্মাদনা কমেনি এতটুকুও।

প্রভু জগন্নাথের এই বার্ষিক সফরকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে ছিল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা। প্রশাসনের তরফে বসানো হয় সিসিটিভি নজরদারি, মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও মেডিক্যাল টিম। ড্রোনের মাধ্যমে চলছিল পুরো রথপথের উপর বিশেষ নজরদারি।
আরও পড়ুনঃ Rath Yatra 2025: ত্রিধারায় রথযাত্রা, খালনার রায়বাড়ির শতাব্দীপ্রাচীন এক অলৌকিক আয়োজন
শুক্রবারের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘চেরা পাহাঁড়া’ রীতি—রাজা গাজপতি মহারাজা স্বয়ং এসে ঝাঁড়ু দিয়ে রথ পরিষ্কার করেন, যা ভক্তদের মধ্যে এক অনন্য বার্তা দেয় সকলের সমতার। শ্রীগুন্ডিচা মন্দির পৌঁছে প্রভুর আগমন উপলক্ষে শুরু হয় নানা পূজা-পার্বণ ও ভোগ বিতরণ।

পুরীজুড়ে (Puri Rath Yatra) জগন্নাথ নামে ধ্বনিত হয় ভক্তির বাণী। মাসির বাড়িতে নয়দিন থাকবেন দেবতারা, এরপর উল্টো রথে আবার ফিরে আসবেন শ্রীমন্দিরে। তবে এই যাত্রার প্রতিটি পদে লক্ষণীয় ছিল মানুষের ভক্তি, ঐক্য এবং চিরন্তন বিশ্বাসের মহিমা। তবে শুক্রবার জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা মাসির বাড়ি পৌঁছাতে না পারায় নানা চর্চা শুরু হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সূর্যাস্তের পর রথ এগোনো যায় না। তবে শুক্রবার বিকেল ৫.৪৫ মিনিটে সূর্যাস্ত হলেও বলরাম ও সুভদ্রার রথ কিছুটা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। অনেকেই বলছেন এটা কোনও অশনি সংকেত নয়তো ?

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
