ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ভোটারদের নাম কাটার চেষ্টা চলছে—এই অভিযোগ তুলে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস (Mamata Banerjee protest)। কমিশনের গৃহীত স্পেশ্যাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়াকে কার্যত “ঘুরপথে ভোটার বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র” বলেই চিহ্নিত করছে রাজ্যের শাসকদল। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এবার দিল্লিতে বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ করে বড় কর্মসূচি নিতে চলেছে তৃণমূল।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/06/29/west-bengal-land-tribunal-bill-governor-row/
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা আনতে দেশের সব রাজ্যকে একটি বিশেষ ঘোষণাপত্র (Declaration Form) পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এই ফর্মের বেশ কিছু নিয়মাবলিকে ‘অবৈধ ও পক্ষপাতদুষ্ট’ বলেই অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। দলের সর্বভারতীয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee protest) মনে করছেন, বাংলায় বিজেপির জনভিত্তি দুর্বল—তা বুঝেই নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা’ আনার নামে তৃণমূল ঘেঁষা ভোটারদের বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় শাসকদল।
এই প্রেক্ষাপটে, একযোগে দিল্লি ও কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলন করে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে তৃণমূল। দলের অভিযোগ, অতীতে কমিশনকে ব্যবহার করে ভুয়ো ভোটারদের ঢোকানো হয়েছে, এবার সেই একই মডেলে এবার ভোটার বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে।
তৃণমূল শিবিরের পরিকল্পনা, ‘ইন্ডিয়া জোট’-এর অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য বিরোধী দলগুলিকে একত্রিত করে একটি সর্বভারতীয় আন্দোলন গড়ে তোলা। ইতিমধ্যেই কংগ্রেস-সহ একাধিক দলের সঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্বের প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দিল্লি, মুম্বই, পাটনা-সহ একাধিক মেট্রো শহরে বিরোধী দলগুলির সমন্বয়ে জোরালো প্রতিবাদ জানানোর রূপরেখা তৈরি হচ্ছে।
এখানেই শেষ নয়। শাসকদল সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে ব্লক স্তর থেকে শুরু করে গ্রাম পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত জনমত গড়ে তুলে ময়দানে নামবে তৃণমূল কংগ্রেস। জনসংযোগ ও সচেতনতা অভিযান চলবে জুলাই মাসজুড়ে। অন্যদিকে, ২১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া সংসদের বাদল অধিবেশনেও এই ইস্যুতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হবে বিরোধীরা।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
সবমিলিয়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। এই বিতর্ক শুধুই নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নয়—এর কেন্দ্রে রয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটার পরিচয় সুরক্ষার লড়াই, যা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এখন সরাসরি মোদি সরকারের বিরুদ্ধে পথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
