West Bengal Land Tribunal Bill:বিলের আড়ালে রাজভবনের সাংবিধানিক ক্ষমতা খর্ব করছে নবান্ন?জমি ট্রাইব্যুনাল সংশোধনী বিল ঘিরে উত্তাল বাংলার রাজনীতি,সরব বিজেপি!

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে রাজভবনের সাংবিধানিক ক্ষমতা খর্ব করার গুরুতর অভিযোগ তুলল বিজেপি। বিধানসভায় সদ্য পাশ হওয়া ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ল্যান্ড রিফর্মেশন অ্যান্ড টিনান্সি ট্রাইবুনাল (সংশোধনী) বিল (West Bengal Land Tribunal Bill) ২০২৫’ ঘিরেই তীব্র এই রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত। বিজেপির অভিযোগ, সংশোধনী বিলটির মাধ্যমে জমি সংক্রান্ত ট্রাইবুনালের সদস্য নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা রাজ্যপালের হাত থেকে সরিয়ে নিয়ে নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/06/29/kasba-gangrape-dharmendra-pradhan-slams-mamata-banerjee/

গত ২৪ জুন, বিধানসভার অধিবেশনের শেষ দিনে এই সংশোধনী বিলটি পাশ হয়। সেই দিনই চার বিজেপি বিধায়ককে সাসপেন্ড করা হয়। এর পরদিন বিজেপি পরিষদীয় দল গোটা অধিবেশন বয়কট করে। ফলে কোনও বিরোধী সদস্য উপস্থিত না থাকায়, কোনও আলোচনাই ছাড়াই সংশ্লিষ্ট বিলটি পাশ হয় বিধানসভায়।

সংশোধনী অনুযায়ী, এতদিন ট্রাইবুনালের সদস্যদের নিয়োগের ক্ষমতা ছিল রাজ্যপালের হাতে। কিন্তু এবার তা রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হয়েছে। বিজেপি বলছে, এই পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের একতরফা ক্ষমতা কেন্দ্রীকরণের প্রচেষ্টা।

আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল কটাক্ষ করে বলেন, “রাজ্যের প্রায় সমস্ত জমি এখন তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ মাফিয়াদের দখলে। মানুষ যখন পুলিশের কাছে কোনও সুরাহা পান না, তখন ট্রাইবুনালে যান। কিন্তু এখন যদি সেই ট্রাইবুনালেও সরকারের মনোনীত সদস্য বসেন, তবে মানুষ যাবে কোথায়? ন্যায়বিচারের স্বচ্ছতা রক্ষা হবে কীভাবে?”

তবে এই অভিযোগ মানতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় বিধায়ক মহম্মদ আলি বলেন, “এই সংশোধনীর মাধ্যমে কোনও ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়নি। বরং বিলটি পাশ করে প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও দ্রুততর করার পথ তৈরি হয়েছে। বিজেপি মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে।”

এদিকে সংশোধনী বিলটি (West Bengal Land Tribunal Bill) এখন রাজভবনে পাঠানো হয়েছে। এই মুহূর্তে প্রশ্ন উঠছে, যেখানে সরাসরি রাজ্যপালের হাতে থাকা নিয়োগের ক্ষমতা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে, সেই বিলে আদৌ রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস সম্মতি দেবেন কি না। প্রশাসনিক মহলের একাংশ বলছে, রাজ্যপালের সম্মতি ছাড়া এই বিল কার্যকর হবে না।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT

এই প্রেক্ষাপটে রাজভবন বনাম নবান্ন সংঘাত ফের তীব্র হয়ে উঠছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই বিল ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক কেবল আইন সংশোধনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই—এটি ছায়া ফেলছে প্রশাসনিক ভারসাম্য ও সংবিধান সম্মত দায়িত্ব বন্টনের প্রশ্নেও।