নিউজ পোল ব্যুরো:কসবা কলেজে ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে যখন উত্তেজনা, সেই সময় রবিবার নিউটাউনের ওয়েস্টিন হোটেলে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan on Bengal violence)। শিক্ষক প্রতিনিধিদের নিয়ে এক আলোচনায় যোগ দিয়ে তিনি রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্র ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, সাংসদ তুষার ঘোষ এবং যোগেশ চন্দ্র কলেজের অধ্যাপকরা।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/06/29/modi-calls-emergency-dark-chapter-mann-ki-baat-123/
ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, “এই ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ইউনিয়ন রুমে একজন ছাত্রীকে গণধর্ষণ করা হয়েছে, যা শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা এবং নৈতিকতার চরম পতনের ইঙ্গিত দেয়। পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসন আজ যেন কুম্ভকর্ণের ঘুমে।”
তিনি আরও বলেন, “ছাত্র সংসদের কোনও নির্বাচন হয় না, দলীয় লোকজনকে নমিনেট করে বসানো হচ্ছে। সেই ইউনিয়ন রুমেই আজ ছাত্রীদের সঙ্গে এমন পাশবিক অত্যাচার চলছে। ভিডিও তুলে ব্ল্যাকমেলিং হচ্ছে, অথচ প্রশাসন নিরব।”
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan on Bengal violence)। বলেন, “আপনি তো ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে এসেছেন। তাহলে আজ আপনি কীভাবে এই ছাত্র রাজনীতির দুর্দশা মেনে নিচ্ছেন? আপনি কাদের সঙ্গে নিয়ে চলছেন?”
নারী নিরাপত্তা নিয়েও তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বাংলায় মা-বোনেরা আজ সুরক্ষিত নন। আমাদের কথা না-ও শুনতে পারেন, কিন্তু বাংলার মা-বোনেদের আর্তনাদ তো শুনতেই হবে।”
ধর্মেন্দ্র প্রধান দোষীদের কঠোর শাস্তি ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। তাঁর মতে, “বাংলা একসময় মাতা সরস্বতীর কেন্দ্র ছিল, আজ সেই শিক্ষাঙ্গনেই অন্ধকার নেমে এসেছে। আমরা এই অন্যায়ের শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
এদিকে,সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত যোগেশ চন্দ্র কলেজের এক অধ্যাপক বলেন, শিক্ষাঙ্গনে এই ধরনের অপরাধ শুধু ছাত্রদের জন্য নয়, শিক্ষকদের কাছেও অত্যন্ত লজ্জার। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে, তা দ্রুত বন্ধ হওয়া দরকার। ধর্মেন্দ্র প্রধানের সঙ্গে মত মিলিয়ে ওই অধ্যাপকও জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফেরানোই এখন সময়ের দাবি।
ইতিমধ্যে এই ঘটনাকে ঘিরে গোটা কলকাতা উত্তাল। ছাত্র সংগঠন, মহিলা সংগঠন রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে। একদিকে পুলিশ বলছে তারা তৎপর, অন্যদিকে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে—“দোষীদের আসল রাজনৈতিক পরিচয় ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে না তো?”
