Mamata Banerjee : ভাষার মর্যাদা রক্ষায় একুশে শপথ মুখ্যমন্ত্রীর, আক্রমণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর বার্তা

কলকাতা রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: ভিনরাজ্যে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হেনস্তা এবং বাংলার মনীষীদের অপমানের অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। এই আবহেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ভাষা (International Mother Language Day) ও সংস্কৃতি রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বিজেপির বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগকে কেন্দ্র করে যখন রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে, তখনই ভাষা-সম্মানের প্রশ্নে সরব শাসকদল।

আরও পড়ুন : Weather Update : নিম্নচাপ শক্তি বাড়ালেও প্রভাব নেই রাজ্যে, উইকেন্ডে ৩১ ডিগ্রির পথে কলকাতা! ফিকে হচ্ছে শীতের আমেজ

এক্স হ্যান্ডেলে (X Handel) দেওয়া বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) লেখেন, বাংলা কেবল রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, সুকান্ত বা জীবনানন্দের ভাষা নয়—এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের অংশ। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, তার সরকার সব ভাষাকেই সমান মর্যাদা দেয়। তার দাবি, রাজ্যে হিন্দি, সাঁওতালি, কুরুখ, কুড়মালি, নেপালি, উর্দু, রাজবংশী, কামতাপুরী, পাঞ্জাবি ও তেলুগু ভাষাকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাদরি ভাষার উন্নয়নেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ভাষার বিকাশে গড়ে তোলা হয়েছে পৃথক অকাদেমি—হিন্দি অকাদেমি, রাজবংশী ভাষা অকাদেমি, কামতাপুরী ভাষা অকাদেমি ও সাঁওতালি অকাদেমি। তার কথায়, রাজ্যের প্রতিটি ভাষাভাষী মানুষের মাতৃভাষায় শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। একুশের প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে মুখ্যমন্ত্রী(Mamata Banerjee) বলেন, ভাষার উপর আঘাত এলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। তার অঙ্গীকার, যে কোনও ভাষার সম্মান রক্ষায় সরকার আপসহীন থাকবে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার এই বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক দিন। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ছাত্র-যুবকদের আন্দোলনে নেমে আসে প্রশাসনের দমননীতি। ১৪৪ ধারা জারি সত্ত্বেও ঢাকায় মিছিল করেন ছাত্ররা। পুলিশের গুলিতে শহিদ হন সালাম, রফিক, বরকত, জব্বারসহ অনেকে। তাদের আত্মবলিদানের ফলেই বাংলা ভাষা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পায় এবং পরবর্তীতে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃত হয়। আজও বিশ্বজুড়ে বাঙালিরা গভীর শ্রদ্ধায় দিনটি পালন করেন; এপার বাংলা ও বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে নানা কর্মসূচি ও শ্রদ্ধাঞ্জলি।