নিউজ পোল ব্যুরো: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! অবশেষে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে আসতে চলেছে মার্কিন নির্মিত শক্তিশালী অ্যাপাচি AH-64E আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার (Apache Helicopter)। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর (Operation Sindoor) পর সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারে জোর দিলেও, যুদ্ধক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় এই হেলিকপ্টারগুলি (Apache Helicopter) দীর্ঘদিন ধরে শুধুই তালিকায় রয়ে গিয়েছিল। ১৫ মাসেরও বেশি বিলম্বের পর, এই জুলাই মাসেই প্রথম ব্যাচের তিনটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার সেনাবাহিনীর হাতে আসতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সূত্রে। বছরের শেষে বাকি তিনটি আসার কথা রয়েছে।
আরও পড়ুন: GST-তে বড়সড় ছাড়ের ভাবনা! মধ্যবিত্তের হাঁফ ছাড়ার সম্ভাবনা, উৎসবের আগেই সুখবর
২০২০ সালে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে ভারতের সেনাবাহিনীর (Indian Army) জন্য ছয়টি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার (Apache Helicopter) কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ভারতীয় বিমান বাহিনী ২০১৫ সালের আলাদা এক চুক্তিতে ইতিমধ্যেই ২২টি অ্যাপাচি যুক্ত করেছে তাদের বহরে। সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্যে তৈরি হওয়া এই অ্যাপাচিগুলির প্রথম স্কোয়াড্রন যোধপুরে (Jodhpur) গঠিত হলেও, গত ১৫ মাস ধরে সেটি ছিল হেলিকপ্টারবিহীন।
এই বিলম্বের নেপথ্যে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত জটিলতা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে সমস্যা দায়ী। প্রথম ব্যাচে তিনটি হেলিকপ্টার এবং দ্বিতীয় ব্যাচে আরও তিনটি এসে পৌঁছাবে—এমনটাই জানানো হয়েছে সূত্র মারফত। অ্যাপাচি AH-64E হেলিকপ্টারগুলি অগ্নিশক্তি, নির্ভুল লক্ষ্যভেদ ক্ষমতা এবং তৎপরতার জন্য বিখ্যাত। এগুলি স্থলসেনার ঘনিষ্ঠ সমর্থনে, ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী অভিযান কিংবা শত্রুপক্ষের কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে অত্যন্ত কার্যকর। পশ্চিম সীমান্তে সেনাবাহিনীর গেম-চেঞ্জার হয়ে উঠতে পারে এই আধুনিক যুদ্ধযান।
সেনাবাহিনীর বিমান চলাচল কর্পস – শক্তির নীরব রূপকার
অ্যাপাচি যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে ভারতীয় সেনাবাহিনীর এভিয়েশন কর্পস আরও শক্তিশালী হতে চলেছে। বর্তমানে এই শাখার হাতে থাকা উল্লেখযোগ্য সম্পদগুলির মধ্যে রয়েছে:
Rudra: দেশে তৈরি মাল্টি-রোল হেলিকপ্টার। পরিবহন, গোয়েন্দা, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে ব্যবহৃত হয়।
রুদ্র: ধ্রুবের সশস্ত্র সংস্করণ, যা ঘনিষ্ঠ যুদ্ধ সহায়তা ও ট্যাঙ্ক ধ্বংসে ব্যবহৃত হয়।
Cheetah and Chetak: হালকা হেলিকপ্টার, যা নজরদারি, সরবরাহ এবং চিকিৎসা সরিয়ে নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়।
LCH (লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার): উচ্চ উচ্চতায় আক্রমণ চালাতে সক্ষম দেশীয় হেলিকপ্টার, বিশেষত পাহাড়ি এলাকায় ব্যবহৃত।
Mi-17: মধ্যম ক্ষমতার পরিবহণ হেলিকপ্টার।
ডর্নিয়ার ২২৮: হালকা ফিক্সড উইং বিমান, যা পরিবহন ও নজরদারিতে ব্যবহৃত হয়।
Heron ও Searcher UAV: বিভিন্ন পরিসরের মনুষ্যবিহীন নজরদারি যান, যারা শত্রুর গতিবিধি ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে দক্ষ।
এই বৈচিত্র্যময় এয়ার অ্যাসেটগুলি ভারতীয় সেনাবাহিনীকে শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জরুরি উদ্ধার অভিযানে অসাধারণ দক্ষতার সাথে কাজ করতে সাহায্য করে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
