Dilip Ghosh : একের পর এক কর্মসূচি থেকে দূরে রাখছে দল, ভোটের আগে কোন পথে হাঁটতে চলেছেন অভিমানী দিলীপ?

কলকাতা রাজনীতি

নিউজ পোল ব্যুরো: বিজেপিতে (BJP) শুরু হল সমীক যুগ। বৃহস্পতিবার মহাসমারোহে কলকাতার সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে শমীক ভট্টাচার্যের কাঁধে তুলে দেওয়া হয়েছে রাজ্য সভাপতির ভার। অভিনন্দন জানানোর অনুষ্ঠানে প্রাক্তন-বর্তমান নেতাদের দেখা গেলেও দেখা যায়নি বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে। বলা ভালো নবনির্বাচিত রাজ্য সভাপতি শমীকের সংবর্ধনা কর্মসূচিতে দিলীপকে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি। একের পর এক সভা ,অনুষ্ঠান থেকে দিলীপকে ব্রাত্য করার ঘটনাই এখন বঙ্গ রাজনীতিতে অন্যতম হট টপিক। বিজেপিতে দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) ভবিষ্যৎ কি? কেনই বা দলের নানা কর্মসূচী থেকে তাকে বাদ দেওয়া হচ্ছে এই নিয়েই চর্চা তুঙ্গে।

দিলীপ ঘোষ রাজ্য বিজেপির সভাপতি নির্বাচনের সমগ্র প্রক্রিয়া থেকেই দূরে ছিলেন। এমনকি বৃহস্পতিবার সায়েন্স সিটিতে যেখানে বিজেপির বহু পুরানো নেতাদের উপস্থিতি চোখে পড়েছে সেখানে দিলীপকে দেখা যায়নি। সূত্রের খবর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বই নাকি দিলীপ ঘোষকে এই সভায় না রাখার বার্তা দিয়েছে। তবে কেন এই দূরে দূরে ভাব সেই উত্তর খুঁজতেই চলছে নানা কাটাছেরা। যে দিলীপ ঘোষের হাত ধরে বাংলায় বিজেপির আসন ৩ থেকে ৭৭ হয়েছে সেই ব্যক্তিই এখন দলের মধ্যে ব্রাত্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভা থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভা কোথাও দেখা যায়নি বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতিকে। এই নিয়ে বর্তমান রাজ্যসভাপতিকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ”আমি নিজেই এই মঞ্চে আমন্ত্রিত। আমি জানি না বিষয়টা।” সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, ”পরে বলব। বলব না। বর্তমান রাজ্য সভাপতি বলবে।” রাজনৈতিক মহল বলছে মুখে না বললেপ দলের লোকেরাই দিলীপ ঘোষকে এড়িয়ে চলতে চলতে চাইছেন। নেপথ্যে কোন অঙ্ক সেটাই মেলাতে চাইছে রাজনৈতিক মহল। বারে বারে কোণঠাসা হয়ে আগামী পদক্ষেপ কি নেবেন দিলীপ সেই দিকেও নজর রয়েছে সকলেরই।

বাংলার রাজনীতিতে এই ছবি খুব স্পষ্ট যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) আমন্ত্রণে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে যাওয়া ও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার থেকেই বিজেপির সঙ্গে দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) দুরত্ব বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ একেবারেই ভালোভাবে নেয়নি কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব। তার পর থেকেই দিলীপকে এড়িয়ে চলছে রাজ্যের ও কেন্দ্রের বিজেপি নেতারা। এমনকি এটাও শোনা গিয়েছিল দিলীপ ঘোষ না কি নতুন দল গড়ছেন। যদিও তিনি জানিয়ে দেন ‘আমি দল দাঁড় করিয়েছি, দল গঠন করিনি। দল গঠন করার দরকার নেই। সত্তর বছর ধরে লড়াই করে আমরা একটা দল দাঁড় করিয়েছি। সেই দলই এখানকার মানুষের স্বপ্ন পূরণ করবে। আলাদা দল করার দরকার নেই। আমরা ওই ধরণের রাজনীতি করি না।” এমনকি এটাও জানান যে তিনি বিজেপির একনিষ্ঠ কর্মীই থেকে যাবেন দল না ডাকলেও। কিন্তু মুখে যত যাই বলুক না কেন দলের অনুষ্ঠানে ডাক না পাওয়া নিয়ে একাধিকবার অভিমানও ঝড়ে পড়েছে দিলীপ ঘোষের গলাতে। পিছিয়ে যেতে যেতে মানুষের দেওয়ালে পিঠ ঠেকলে ঘুরে দাঁড়ায় সেক্ষেত্রে দিলীপ ঘোষ বিজেপিতে কোণঠাসা হতে হতে দলেই থাকবেন না কি নেবেন দল বদলের মত বড় কোনও সিদ্ধান্ত? তাহলে কি ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে বড় কোনও ঝড় উঠতে চলছে বিজেপিতে? একাধিক প্রশ্নই ঘুরছে রাজনৈতিক মহলের অন্দরে।