নিউজ পোল ব্যুরো: ভোরবেলা সূর্যের প্রথম কিরণ যখন শঙ্খধ্বনিতে মিলিয়ে যায়, তখনই হুড়ার কেশরগড় যেন পরিণত হয় পুরীর (Puri) অনুরণনে। জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার আগমনে শুরু হয় আধ্যাত্মিক আনন্দের মহোৎসব (Jagannath Mahaprasad)। আর এই উৎসবের হৃদয়জুড়ে থাকে একটাই নাম—৫৬ ভোগের মহাপ্রসাদ (Jagannath Mahaprasad)।
নদিয়া (Nadia) থেকে আগত ৪২ জন অভিজ্ঞ পাচক এবং তাদের প্রায় ৬০ জন সহযোগী মিলে গড়ে তোলেন এক অনন্য রান্নাঘর। এখানেই প্রতিদিন তৈরি হয় ভগবান জগন্নাথের জন্য শ্রদ্ধা আর ভক্তিতে ভরপুর রাজভোগ (Jagannath Mahaprasad)। শুধু দুপুরে ৫৬ পদ নয়! ভোর সাড়ে চারটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত মোট ছয়বার ভোগ নিবেদন করা হয় প্রভুর চরণে।
ভক্তদের জন্য প্রতিদিন প্রস্তুত হয় প্রায় হাজার পাত মহাপ্রসাদ। গোবিন্দভোগ চালের সাদা ভাত, ঘি ভাত, বাসন্তী পোলাও, তেতো ডাল, কচুর লতি, মোচার ঘন্ট, পনির পোস্ত থেকে শুরু করে টমেটো-আনারসের চাটনি আর পাটিসাপটা, নাড়ু, মালপোয়া, রসবড়া সব মিলিয়ে তা যেন এক স্বর্গীয় খাদ্যভাণ্ডার। ভোরে মঙ্গলারতিতে মিষ্টান্ন ও পেঁড়ার মাধ্যমে শুরু, তারপর জলখাবারে লুচি-ক্ষীর-দুধ, দুপুরে রাজভোগ, বিকেলে বৈকালিক ভোগ, সন্ধ্যায় সন্ধ্যারতিতে নিবেদন এবং রাতে গজা-হালুয়া-লুচি দিয়ে রাত্রিকালীন ভোগ। এই ছয়টি পর্বে ভগবানের আহার এক অবিরাম আনন্দযজ্ঞ।
হুড়া রথ মহোৎসব (Hura Rathyatra) কমিটি এই বছর ১১ বছরে পা দিলেও, এই ভূমিতে রাজভোগের ঐতিহ্য বহু পুরনো। পঞ্চকোট রাজবংশের রাজধানী কেশরগড়ে একসময় শুরু হয়েছিল এই ভক্তিসেবার ধারা, যা আজ মহোৎসবে রূপ নিয়েছে। এখানে ভোগ শুধু আহার নয়, এক আত্মিক নিবেদন। হাজার ভক্তের চোখে জল আসে যখন তারা বলেন, “এই প্রসাদ শুধু খাবার নয়, ভগবানের আশীর্বাদ।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
