নিউজ পোল ব্যুরো: উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুততর করতে আজ, মঙ্গলবার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । চলতি বছরে বিভিন্ন দপ্তরের হাতে থাকা উন্নয়ন প্রকল্পগুলির (Development Projects) অগ্রগতির রিপোর্ট আগেই প্রস্তুত করতে বলা হয়েছিল সংশ্লিষ্ট সচিবদের। কোন প্রকল্পে কতটা কাজ সম্পন্ন হয়েছে, কোথায় ঘাটতি রয়ে গিয়েছে সেই সমস্ত তথ্য নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আজ বিস্তারিত পর্যালোচনা করবেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
এদিকে নবান্নে চলছিল মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের নেতৃত্বে জেলাশাসক, মহকুমাশাসক ও বিডিওদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সিং। সেই বৈঠকেই হঠাৎ উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন যে, রাজ্যজুড়ে চলতে থাকা এসআইআর কার্যক্রমের জেরে যাতে কোনওভাবে বাড়ি, রাস্তা বা জনমুখী উন্নয়নকাজ বাধাগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচনী তদারকির জন্য কমিশনের চাপ আসলেও ভয় না পেতে আধিকারিকদের উৎসাহ দেন তিনি। তার কথায়, “একজন পর্যবেক্ষক (Election Observer) পাঠিয়েছে বলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বদলি হবে, দিল্লি ডাক দেবে— এসব ভেবেই পিছিয়ে গেলে চলবে না। আপনারা কাজ চালিয়ে যান।”
প্রশাসনিক সূ্ত্রে খবর, এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য Election Commission-এর পর্যবেক্ষকরা বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে তথ্য নিচ্ছেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত দিকনির্দেশ দিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রেই অফিস সময়ের বাইরেও কাজ সামলাতে হচ্ছে আধিকারিকদের। এই পরিস্থিতিতেই মুখ্যমন্ত্রী আবার আশ্বাস দিলেন উন্নয়ন আটকে দিলে চলবে না, রাজ্য সরকার পাশে রয়েছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
কেন্দ্রীয় আর্থিক বঞ্চনা ও তদন্ত এজেন্সিগুলির অতিসক্রিয়তার মধ্যেও জনমুখী কর্মসূচিগুলো যাতে পথে না থামে, সেদিকেও কড়া নজর দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। বাজেটে বরাদ্দ করা অর্থ কতটা ব্যবহার হয়েছে, কোন প্রকল্প পিছিয়ে রয়েছে এবং কেন— সেসব বিষয়ও আজ খতিয়ে দেখা হবে। সূত্র অনুসারে, অনলাইন জাতি শংসাপত্র (Online Certificate)-সহ অন্যান্য আবেদন যাতে নাগরিকরা সহজে করতে পারেন, তার জন্য বাংলা সহায়তা কেন্দ্রগুলির পরিষেবা আরও মসৃণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অপরিকল্পিতভাবে এসআইআর চলার ফলে কোথাও আইনশৃঙ্খলা সমস্যা দেখা দিলে রাজ্যের কর্মকর্তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
প্রশাসনিক বৈঠকের পর ৩ ও ৪ ডিসেম্বর মুখ্যমন্ত্রীর মালদহ ও মুর্শিদাবাদে রাজনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে। উন্নয়ন ও রাজনৈতিক লড়াই— এই দুই দিক সামলেই নতুন বছরের আগে রাজ্যের কাজ দ্রুত শেষ করতে চান তিনি।
