নিউজ পোল ব্যুরো: সাইবার নিরাপত্তা (Cyber Security) আরও মজবুত করতে এবার বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। টেলিকম মন্ত্রকের (Telecom Ministry) নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে বাজারে আসা প্রতিটি নতুন স্মার্টফোনে আগেভাগেই ইনস্টল থাকতে হবে ‘সঞ্চার সাথী’ অ্যাপ (Sanchar Saathi App)। সোমবার সন্ধ্যায় এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে দেশের সমস্ত মোবাইল প্রস্তুতকারী সংস্থাকেও এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনও সংস্থাই তাদের তৈরি স্মার্টফোন ‘সঞ্চার সাথী’ অ্যাপ (Sanchar Saathi App) ছাড়া বাজারে আনতে পারবে না। শুধু তাই নয়, এই অ্যাপটি ব্যবহারকারীরা চাইলেও ফোন থেকে ডিলিট বা আনইনস্টল করতে পারবেন না। অর্থাৎ এটি ফোনের সিস্টেম অ্যাপ হিসেবেই স্থায়ীভাবে থেকে যাবে। পাশাপাশি, এই অ্যাপ ফোনে থাকছে—এই বিষয়টি নিয়ে গ্রাহক বা ব্যবহারকারীর কাছ থেকে আলাদা করে কোনও অনুমতিও নেওয়া হবে না।
তবে ইতিমধ্যেই যেসব স্মার্টফোন দেশের বাজারে বিক্রি হয়ে গিয়েছে এবং যেগুলি বর্তমানে ব্যবহারকারীদের হাতে রয়েছে, সেসব ফোনে কীভাবে এই অ্যাপ পৌঁছবে? সেই প্রশ্নেরও উত্তর দিয়েছে টেলিকম মন্ত্রক। জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট মোবাইল নির্মাণকারী সংস্থাগুলিকে একটি ‘সফটওয়্যার আপডেট’-এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট মডেলের ফোনে ‘সঞ্চার সাথী’ অ্যাপ (Sanchar Saathi App) ইনস্টল করে দিতে হবে। এই কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য সংস্থাগুলিকে ৯০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নির্দেশিকা জারি হওয়ার ১২০ দিনের মধ্যে এই সংক্রান্ত অগ্রগতির রিপোর্ট কেন্দ্রের কাছে জমা দিতে হবে বলেও জানানো হয়েছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের শুরুতেই কেন্দ্রীয় সরকার সাইবার সুরক্ষা জোরদার করার লক্ষ্যে ‘সঞ্চার সাথী’ অ্যাপ (Sanchar Saathi App) প্রকাশ করে। এই অ্যাপের মাধ্যমে চুরি যাওয়া মোবাইল ট্র্যাক করা, ভুয়ো সিম চিহ্নিত করা এবং অনলাইন প্রতারণা রুখতে একাধিক সুবিধা রয়েছে বলে দাবি সরকারের। মোবাইল ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল নিরাপত্তার দিকটি আরও শক্তিশালী করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সহজভাবে মেনে নেয়নি বিরোধী রাজনৈতিক শিবির। তাদের অভিযোগ, নাগরিকদের ব্যক্তিগত পরিসরে হস্তক্ষেপ করারই এক নতুন পথ তৈরি করা হচ্ছে। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে লেখেন, ফোনে জোর করে সরকারি অ্যাপ ঢুকিয়ে দেওয়া এবং তা ডিলিট করার সুযোগ না রাখাই প্রমাণ করে, এর মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিকের উপর নজরদারি চালানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ফলে সাইবার সুরক্ষার পাশাপাশি ‘ডেটা প্রাইভেসি’ নিয়েও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিল ‘সঞ্চার সাথী’ (Sanchar Saathi App)।
