Samik Bhattacharya: “চাকরি নয়, বিচার চাই” শমিক ভট্টাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাতে স্পষ্ট বার্তা চাকরিহারা শিক্ষকদের!

কলকাতা রাজ্য শিক্ষা

নিউজ পোল ব্যুরো: “রাজনীতি নয়, ন্যায্যতা চাই!”এই স্লোগান নিয়েই চাকরি হারানো শত শত প্রার্থী আজ পৌঁছলেন সল্টলেকের বিজেপি রাজ্য দফতরে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে বিপর্যস্ত এই প্রজন্মের স্বপ্ন এখন থমকে। আর সেই স্বপ্ন ফেরাতে তাদের চোখ আজ নতুন রাজ্য সভাপতির দিকে। চাকরি ফেরানোর আর্জি নিয়ে বিজেপির দরজায় চাকরিহারা শিক্ষকরা। আজ বিজেপির রাজ্য সদর দফতরে শমিক ভট্টাচার্যকে (Samik Bhattacharya) সংবর্ধনা জানানোর পাশাপাশি নিজেদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন চাকরিহারা শিক্ষকরা। দাবি একটাই, যোগ্যদের চাকরি ফিরিয়ে দাও, দুর্নীতিবাজদের বাদ দাও।

আরও পড়ুন:Jagannath Mahaprasad: ভগবানের পাতেই অমৃত! হুড়ার রথযাত্রায় ৫৬ ভোগে ভক্তিভরা প্রার্থনা

চাকরিহারাদের দাবি, বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে চলেছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা ২২ লক্ষ ওএমআর শিট প্রকাশ সংক্রান্ত মামলা এবং বেআইনি নোটিশ ও গেজেট বাতিলের মামলা। তাদের মতে, এই দুটি মামলার রায়েই পরিষ্কার হয়ে যাবে নিয়োগ দুর্নীতির চূড়ান্ত চিত্র। এবং যদি ওএমআর শিট প্রকাশ পায়, তাহলে প্রকৃত চাকরি প্রাপকদের চিহ্নিত করা যাবে এবং বেআইনি নিয়োগকারীদের সরানো সম্ভব হবে। চাকরিচ্যুতদের তরফে জানানো হয়েছে, “রাজ্য সভাপতি (Samik Bhattacharya) স্পষ্ট করে আশ্বস্ত করেছেন যে বিজেপি রাজ্য নেতৃত্ব আইনি প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা করবে। তবে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করবে না, কারণ এই আন্দোলন একেবারে স্বতঃস্ফূর্ত ও অরাজনৈতিক ভাবে গড়ে উঠেছে।”

তারা জানান, “আমরা রাজনীতির অংশ হতে চাই না। শুধু চাই আমাদের ন্যায্য চাকরি ফিরে আসুক। যারা প্রকৃত যোগ্য, তারা যেন ন্যায়ের স্বীকৃতি পায়। বিজেপি (Samik Bhattacharya) যদি আমাদের আইনি ও সাংবিধানিক লড়াইয়ে পাশে দাঁড়ায়, আমরা কৃতজ্ঞ থাকব।” তারা আরও বলেন, “এই দুর্নীতির চিত্র প্রধানমন্ত্রী জানলে বিষয়টি অন্য মাত্রা পাবে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আগেই লিখিত ভাবে অভিযোগ জানিয়েছি। আশা করছি, ১৮ জুলাই তার সভার সময় আমরা সেই যন্ত্রণার কথা সরাসরি জানাতে পারব। “দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসাবে তারা প্রধানমন্ত্রীকে তাদের জীবনের “নরকযন্ত্রণা” তুলে ধরতে চান।”

আন্দোলনকারীরা বলেন, “আমাদের কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। তবে যে দল বা নেতৃত্ব আমাদের লড়াইকে সঙ্গ দেবে, আমরা তাদের পাশে থাকব। বিজেপি যদি সত্যিই আমাদের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে সমস্ত স্তরের চাকরি হারানোরা বিজেপির আন্দোলনে শামিল হবে। এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন নীলাদ্রি শেখর দানা, সত্য নারায়ণ মুখার্জী, মনোজ ওরাও সহ আরও অনেকেই। বিজেপি বিধায়ক মনোজ ওরাও, যিনি বিধানসভায় এই ইস্যুতে সরব হয়ে সাসপেন্ডও হয়েছেন, তিনিও আগেও মিছিলে হেঁটেছেন চাকরি হারানোদের সঙ্গে।”

তারা আরও জানিয়েছেন, এই ইস্যুতে তারা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও চিঠি পাঠিয়েছেন। “তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হয়ে উনি চুপ কেন? এটা নৈতিক প্রশ্ন। এই লড়াই নিছক চাকরির জন্য নয়। এটি একটা প্রজন্মের অধিকার ফিরে পাওয়ার লড়াই আর সেই লড়াইয়ে নতুন করে রাজনৈতিক সমর্থন খুঁজতে পথে নেমেছেন তারা। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্যের আশ্বাসে আপাতত কিছুটা ভরসা পেলেও, চাকরি ফেরার আগ পর্যন্ত থেমে না থাকার কথা বললেন তারা।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT