নিউজ পোল ব্যুরো:হাতে মাত্র দু’দিনের ছুটি, তবু মনটা চাইছে একটু প্রকৃতির কাছে ফিরে যেতে? একইসঙ্গে সমুদ্রের ডাক, নিরিবিলি পরিবেশ আর বাজেটের মধ্যে সফরের পরিকল্পনা? কলকাতার একেবারে কাছেই এমনই এক স্বপ্নময় গন্তব্য হয়ে উঠছে বকখালি (Short trip sea beach)।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/07/06/post-office-5-year-senior-savings-scheme-returns/
শহরের কোলাহল, কাজের চাপে ক্লান্ত শরীর আর অবসন্ন মনের জন্য বকখালি যেন এক টুকরো শান্তির ঠিকানা। নেই অতিরিক্ত পর্যটকের ভিড়, নেই চেনা বাণিজ্যিকতার ব্যস্ততা—রয়েছে শুধু সমুদ্র, প্রকৃতি আর নির্জনতা। যারা বহুবার দীঘা কিংবা মন্দারমণিতে ঘুরে এসেছেন, তাদের কাছে বকখালি হতে পারে এক নতুন অভিজ্ঞতা।
কলকাতা থেকে গাড়িতে মাত্র তিন ঘণ্টার পথ। চাইলে ট্রেনেও যাওয়া যায়। শিয়ালদহ থেকে নামখানা লোকাল ধরে পৌঁছে যান নামখানায়, সেখান থেকে অটো বা বাসে পৌঁছে যাওয়া যায় বকখালিতে। চাইলে ধর্মতলা থেকে সরাসরি বাসেও যাওয়া যায় এই গন্তব্যে। নিজের গাড়িতে গেলে ডায়মন্ড হারবার রোড ধরে কুলপি, কাকদ্বীপ হয়ে পৌঁছতে হবে বকখালিতে। রাস্তাঘাট মসৃণ, যাত্রাপথ মনোরম—যার ফলে সফরটাই হয়ে ওঠে আলাদা আনন্দের।
বকখালির (Short trip sea beach) প্রধান আকর্ষণ অবশ্যই সমুদ্রস্নান। তবে এখানেই থেমে থাকলে ভুল হবে। সৈকতের কাছেই রয়েছে হেনরি আইল্যান্ড, যেখানে প্রকৃতিকে দেখা যায় একেবারে কাঁচা, নির্ভেজাল রূপে। আরেকদিকে রয়েছে ফ্রেজারগঞ্জ, ছোট মাছধরা নৌকো, নির্জন পাড় আর সূর্যাস্তের এক অপরূপ দৃশ্য—যা মনে গেঁথে যায় দীর্ঘদিনের জন্য।
থাকার ব্যবস্থাও যথেষ্ট সাশ্রয়ী। নানা বাজেটের হোটেল, অতিথিশালা কিংবা রিসর্ট মিলবে অনায়াসে। স্থানীয় খাবারে রয়েছে বাঙালি রান্নার সহজ অথচ স্বাদে ভরপুর উপস্থাপনা। সবমিলিয়ে দুই রাত-তিন দিনের একটি ঝটিকা সফরেই এই স্থানটি উপভোগ করা সম্ভব।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
বকখালির সৌন্দর্য আলাদা। এখানে নেই বড় রিসর্টের গ্ল্যামার, নেই ফাস্ট ফুড চেনের চকচকে আলোর খেলা। রয়েছে কাকভোরে সমুদ্রের শব্দ, পাখির ডাক, আর বিকেলের হাওয়ায় দোল খাওয়া বালুকাবেলার পাশে বসে থাকার অনন্ত আরাম।
এই ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা বারবার টেনে নিয়ে যায় সেই শান্তির কোলে।
তাই আর দেরি না করে এই ছুটিতে ব্যাগ গুছিয়ে ঘুরে আসুন বকখালি। দেখবেন, শহরের হাজারো ব্যস্ততা আর ক্লান্তির মধ্যে নিজেকে একটু নতুন করে ফিরে পাওয়া যায় এই সমুদ্রের ধারে।
