নিউজ পোল ব্যুরো: ভারত-আমেরিকার (India US Trade) বহু প্রতীক্ষিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছালেও, একটি অপ্রত্যাশিত ইস্যু এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুধ (Milk)। না, শুধু দুধ নয়, সেই দুধের উৎস আর পশুখাদ্যের ধরন ঘিরে দানা বাঁধছে বিতর্ক। মূল ইস্যু ‘নিরামিষ’ দুধ বনাম ‘আমিষ’ দুধ।
আরও পড়ুন: Tesla: ‘এলন মাস্ক’ এর ম্যাজিক এখন মুম্বাইয়ে’! শুরু হলো টেসলার ভারত অভিযান
ওয়াশিংটনের (Washington) দাবি, ভারতের (India) উচিত তাদের ডেয়ারি মার্কেট আরও উন্মুক্ত করে দেওয়া, যাতে মার্কিন দুগ্ধজাত পণ্যের (India US Trade) প্রবেশাধিকার বাড়ে। কিন্তু দিল্লি (Delhi) তাতে রাজি নয়। কেন? ভারতের দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গরুকে শুধু ঘাস বা শস্য নয়, দেওয়া হয় পশুপ্রসূত খাদ্য—যেমন মাছ, মাংস, এমনকি শুয়োর ও ঘোড়ার রক্ত। এই প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত দুধকে ‘নিরামিষ’ বলতে নারাজ ভারত। আর এখানেই সমস্যা।ভারতে দুধ শুধু খাদ্য নয়, এটি সংস্কৃতি, ধর্ম এবং আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। গৃহস্থের চায়ের কাপ থেকে শুরু করে পুজোর থালায় ঘি-মাখন, সবেতেই রয়েছে দুধের (Milk) ব্যবহার। তাই এমন দুধ আমদানি যা কোনও ‘মাংসাশী খাদ্যভিত্তিক’ গরুর শরীর থেকে এসেছে, তা ভারতীয় মূল্যবোধে আপত্তিকর।
ভারতের বাণিজ্য (India US Trade) মধ্যস্থতাকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, গরু ছাড়া অন্য কোনও প্রাণীর দুধ নয়, এমনকি গরুর দুধ হলেও যদি সেই গরুর খাদ্যতালিকায় মাংসজাত উপাদান থাকে, তাও নয়। প্রয়োজন পড়লে ‘নিরামিষ দুধ’ নিয়ে আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশনও বাধ্যতামূলক করা হবে বলে জানানো হয়েছে। গ্লোবাল ট্রেন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, “ভাবুন তো, আপনি যে ঘি খাচ্ছেন বা পুজোয় ব্যবহার করছেন, সেটি এসেছে এমন গরুর কাছ থেকে, যাকে বিড়াল-কুকুরের মাংস খাওয়ানো হয়েছে! এটা ভারতীয়দের কাছে অকল্পনীয়।”
অন্যদিকে, মার্কিন প্রশাসন মনে করছে, ভারতের এই ‘অতিরিক্ত কড়াকড়ি’ অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবুও ভারত নিজের অবস্থানে অনড়। বিশ্বের বৃহত্তম দুধ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে—চুক্তি হোক, কিন্তু ‘নিরামিষ দুধ’ ছাড়া নয়।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
