Pahalgam Terror Attack : পহেলগাঁওতে হামলার পর শূন্যে কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়ে উল্লাসে মেতেছিল জঙ্গিরা, তদন্তকারীদের হাতে ভয়ানক তথ্য

দেশ

নিউজ পোল ব্যুরো: পহেলগাঁও-এর বৈসরন উপত্যকায় (Pahalgam Terror Attack) ধর্ম জেনে বেছে বেছে পর্যটকদের খুন করে জঙ্গিরা। ভারতের ইতিহাসে পর্যটকদের উপর হওয়া বড় সন্ত্রাসবাদী হামলার তদন্ত চলছে। সেই তদন্তেই উঠে আসছে চাঞ্চল সব তথ্য। ২৬ জনকে খুন করার পর জঙ্গিরা শূন্যে গুলি চালিয়ে মেতেছিল পৈশাচিক আনন্দে। সম্প্রতি তদন্তকারীদের হাতে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে যে বৈসরন উপত্যকায় হামলা চালানো তিন জঙ্গিকে হত্যাকাণ্ডের পরপরই উদযাপনের জন্য গুলি চালাতে দেখা গিয়েছে। যা তাদের হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডের নির্লজ্জ উদযাপন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তদন্তে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যক্ষদর্শীর কাছ থেকে এই তথ্য মিলেছে। প্রত্যক্ষদর্শী, একজন স্থানীয় ব্যক্তি যিনি হামলার পরপরই জঙ্গিদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তিনি গোয়েন্দাদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। জানিয়েছেন, গত বৈসরন উপত্যকায় ২২ এপ্রিল বেছে বেছে হিন্দু নিধনের পর টিআরএফের পাঁচ জঙ্গির মধ্যে তিন জন শূন্যে গুলি চালিয়ে উল্লাসে মেতেছিল। মোট চার রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছিল বলেই সূত্রের খবর। প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, জঙ্গিদের লজিস্টিক সহায়তা প্রদানের অভিযোগে এনআইএ-এর হাতে গ্রেফতার হওয়া দুই স্থানীয় ব্যক্তি হামলার সময় উপত্যকায় উপস্থিত ছিলেন। এই ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে তিন সন্ত্রাসীর জিনিসপত্র পরিচালনা করছিলেন বলেও জানা গিয়েছে।

প্রসঙ্গত, হামলাকারী জঙ্গিদের মধ্যে সুলাইমান নামে একজন লস্কর-ই-তৈবার কমান্ডারও রয়েছেন, যিনি জম্মু ও কাশ্মীরের আরও তিনটি সন্ত্রাসী ঘটনার সাথে জড়িত। অই জঙ্গি একজন ভয়ঙ্কর অপারেটিভও। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এবং লস্কর-ই-তইবা মিলিতভাবে এই পরিকল্পনা সাজায়। হামলার (Pahalgam Terror Attack) দায়িত্ব দেওয়া হয় বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত পাক জঙ্গিদের, যাদের বাছাই করা হয় শুধুই বিদেশি নাগরিকদের মধ্য থেকে। ভারতীয় গোয়েন্দারা জানাচ্ছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী কোনও কাশ্মীরি জঙ্গিকে এই অপারেশনে যুক্ত করা হয়নি, যাতে গোপনীয়তা অটুট থাকে। এই হামলার মূল দায়িত্বে ছিল ‘সুলেমান’ নামে এক জঙ্গি, যাকে পাকিস্তানের প্রাক্তন স্পেশাল ফোর্স কমান্ডো বলে মনে করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, হামলার এক সপ্তাহ আগেই সে উপস্থিত ছিল পহেলগাঁওয়ের (Pahalgam) কাছে বৈসরণ উপত্যকায়। এর আগে সে মুরিদকেতে লস্করের ঘাঁটিতে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল এবং ১৫ এপ্রিল তাকে কাশ্মীরের (Kashmir) ত্রাল অঞ্চলে স্যাটেলাইট ফোনে ট্র্যাক করা যায়। পুরো হামলার পরিকল্পনা, প্রস্তুতি এবং বাস্তবায়ন হয়েছিল সেনা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের আশীর্বাদে।