Bathu Ki Ladi Temple:জলের নিচে আট মাস ঘুমিয়ে থাকা এক মন্দির, যার সিঁড়ি নাকি স্বর্গের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়!

ইতিহাস

নিউজ পোল ব্যুরো:হিমাচলের কাংড়া জেলার অজস্র পাহাড় আর জলের রাজ্যে ঘেরা এক নিঃশব্দ বিস্ময়—‘বাথু কি লাদি’ মন্দির (Bathu Ki Ladi Temple)। বছরের দীর্ঘ আটটি মাস, এই মন্দির ঘুমিয়ে থাকে পং বাঁধের জলের গভীরে। যেন প্রকৃতিই তাকে রেখেছে এক অলৌকিক ঘোরে। আর ঠিক মার্চের শেষভাগ থেকে শুরু হয় তার জেগে ওঠার পালা—ধীরে ধীরে সরতে থাকে জল, উদ্ঘাটিত হতে থাকে এক প্রাচীন মন্দিরের চূড়া, ধাপে ধাপে দেখা মেলে এক পৌরাণিক রহস্যের।

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/07/20/post-office-gram-suraksha-yojana-35-lakh-return/

জনশ্রুতি বলে, স্বর্গের পথ এখান থেকেই শুরু করেছিলেন পাণ্ডবরা। সেই সিঁড়ি শেষ করতে না পারলেও, আজও মন্দিরের পাশে দেখা যায় ভাঙা ধ্বংসাবশেষ—যা স্থানীয়রা বলেন ‘স্বর্গের সিঁড়ি’। সময় এখানে থেমে আছে ইতিহাস আর বিশ্বাসের মাঝখানে।

‘বাথু কি লাদি’ (Bathu Ki Ladi Temple)—এই নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে তার নির্মাণরহস্য। বাথু নামের শক্ত পাথর দিয়ে গড়ে উঠেছে এই মন্দিরসমষ্টি, যা দূর থেকে দেখে মনে হয় পাথরের তৈরি এক শিল্পিত মালা। এক বিশাল বিষ্ণু মন্দিরের চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে আরও আটটি ছোট মন্দির। ভিতরে শেষনাগের উপর শুয়ে আছেন শ্রীবিষ্ণু, পাশে কালী, গণেশসহ বহু দেবতার খোদাই।

ইতিহাস অনুযায়ী, ষষ্ঠ শতকে গুলেরিয়া রাজাদের আমলে তৈরি হয়েছিল এই মন্দির। তবে ইতিহাস যতই যুক্তির পথ দেখাক, এখানকার মানুষের বিশ্বাস—এই মন্দিরের জন্ম মহাভারতের পাতায় লেখা।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT

পং বাঁধের জলে থাকা এই মন্দিরচত্বর মহারানা প্রতাপ সাগর হ্রদের অন্তর্গত। শুধু ধর্ম নয়, প্রকৃতির অপার রূপও জড়িয়ে আছে এই স্থানের সঙ্গে। বছরে একবার যখন মন্দির জলের নিচ থেকে উঠে আসে, তখনই হাজির হয় হাজারো পাখি, দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্ত আর প্রকৃতিপ্রেমীরা।

বছরের বাকি আট মাস, জলে ঢাকা এই মন্দির এক নিঃশব্দ রহস্য। কিন্তু চার মাসের জন্য সে উঠে আসে আলোর মুখে, দর্শনার্থীদের সামনে মেলে ধরে তার অজানা কাহিনি। যেন প্রকৃতি নিজেই আমাদের বলে—
“রূপকথা শুধু কাগজে লেখা নয়, জল আর পাথরের বুকেও তারা বেঁচে থাকে।”