Shashi Tharoor:জাতীয় স্বার্থে রাজনৈতিক সহমত জরুরি—অপারেশন সিঁদুর বিতর্কে কেন্দ্রের পাশে দাঁড়িয়ে কংগ্রেস নেতৃত্বকে বার্তা দিলেন শশী থারুর!

রাজনীতি

নিউজ পোল ব্যুরো:‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে বিজেপি সরকারকে সমর্থন করে কংগ্রেসের অন্দরেই প্রশ্নের মুখে পড়েছেন বর্ষীয়ান নেতা শশী থারুর (Shashi Tharoor)। সেই বিতর্কের মধ্যেই ফের স্পষ্ট বার্তা দিলেন তিনি—‘দেশ সবার আগে।’ শনিবার কেরলের কোচিতে ‘শান্তি, সম্প্রীতি ও জাতীয় উন্নয়ন’ বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে থারুর বলেন, ‘‘রাজনৈতিক দল কেবল মাধ্যম মাত্র, যার সাহায্যে দেশকে আরও উন্নত করা যায়। আমার মতে, প্রথম আনুগত্য থাকা উচিত দেশের প্রতি, দলের প্রতি নয়।’’

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/07/20/bathu-ki-ladi-submerged-temple-himachal-pradesh/

শশী থারুরের এই মন্তব্য ঘিরে ফের জল্পনা শুরু হয়েছে, কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব কি আরও বাড়ছে? অনুষ্ঠানে এক ছাত্র প্রশ্ন করেছিল তাঁর কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে। তার জবাবে থারুর বলেন, ‘‘আমি এখনও দলে রয়েছি কারণ দলের আদর্শ ও মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু জাতীয় স্বার্থে অন্য দলের সঙ্গে সহযোগিতাও দরকার—এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।’’

সম্প্রতি ‘অপারেশন সিঁদুর’ ইস্যুতে কেন্দ্রের অবস্থানকে সমর্থন করায়, কংগ্রেসেরই একাংশ তারুরের বিরুদ্ধে সমালোচনায় সরব হয়। এ দিন তার জবাবে শশী থারুর (Shashi Tharoor) বলেন, ‘‘অনেকেই আমার সমালোচনা করছেন কারণ আমি সশস্ত্র বাহিনী ও দেশের সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছি। সীমান্তে যা ঘটছে, তাতে আমার মনে হয়েছে, এই অবস্থানই দেশের স্বার্থে সঠিক।’’

জাতীয় নিরাপত্তা এবং সমন্বিত উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘গত ১৬ বছর ধরে আমি সর্বসমক্ষে বলছি—উন্নয়ন ও নিরাপত্তা একসঙ্গে চলা উচিত। দলীয় প্রতিযোগিতা থাকবে, তবে জাতীয় সংকটের সময় রাজনৈতিক দলগুলির একজোট হওয়া জরুরি।’’

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT

পরে সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশে থারুর বার্তা দেন, ‘‘আমার রাজনৈতিক দর্শন বরাবরই ‘নেশন ফার্স্ট’—দেশ আগে। বিদেশের চাকরি ছেড়ে শুধুমাত্র দেশের সেবা করার জন্যই রাজনীতিতে এসেছি। সেই কাজ রাজনীতির ভেতরে বা বাইরে থেকে চালিয়ে যাব।’’

‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে সর্বদলীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তে কংগ্রেসের একাংশ যে অসন্তোষে ছিল, তা ঘিরেও মুখ খুলেছেন তিনি। বললেন, ‘‘আমি এই নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করিনি। কিন্তু আজ এক ছাত্র যখন প্রশ্ন করল, তখন মনে করলাম, উত্তর দেওয়াই উচিত।’’

শেষে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর একটি উক্তি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘ভারত যদি মারা যায়, তবে বাঁচে কে?’ এই কথার মধ্যেই তারুরের বার্তা—দেশের স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলিকে দলগত বিভেদ ভুলে একজোট হতে হবে।