নিউজ পোল ব্যুরো: বিহারে (Bihar) আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ময়দানে ঝড় তুলেছে ভোটার তালিকা সংশোধন ইস্যু। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ— নির্বাচন কমিশনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ প্রক্রিয়া কার্যত একপেশে, পক্ষপাতদুষ্ট এবং গণতন্ত্রের মৌলিক নীতিকে অবমাননা করছে। এই পরিস্থিতিতে ভোট বয়কটের কথা ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন তারা, জানিয়ে দিয়েছেন বিহার (Bihar) বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব (Tejashwi Yadav)।
আরও পড়ুন: Mahanayak Uttam Kumar: ১৯৮০ সালের ২৬ জুলাই, মহানায়কের মহাপ্রয়াণের দিন ঠিক কি ঘটেছিল?
বুধবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তেজস্বী (Tejashwi Yadav) প্রথমবার ভোট বয়কটের ইঙ্গিত দেন। বৃহস্পতিবার (Thursday) সেই বক্তব্যের স্বপক্ষে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “এটা নিছক হুমকি নয়। মানুষের সঙ্গে কথা বলব, জোটসঙ্গীদের মতামত নেব। সবাই একমত হলে ভোট বয়কটের সিদ্ধান্ত হতে পারে।” বিরোধীদের অভিযোগ, কমিশনের এই তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া মূলত প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ ও সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে। বহু মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে শুধুমাত্র প্রমাণপত্রের অভাবে— যারা দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ভোট দিয়ে এসেছেন। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের প্রায় ৫৬ লক্ষ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন, যার গড় হিসাবে প্রতি বিধানসভা কেন্দ্রে ২৩ হাজার।
এই বাদ পড়া ভোটারদের বড় অংশই চিরাচরিত বিজেপি-বিরোধী বলে পরিচিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই তালিকা সংশোধনের জেরে নির্বাচনের ফলাফল প্রবলভাবে প্রভাবিত হতে পারে। এদিকে কমিশন জানিয়েছে, তারা শুধুমাত্র ‘যোগ্য’ নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতেই কাজ করছে। তবে তেজস্বীর (Tejashwi Yadav) এই বয়কট হুঁশিয়ারিকে অনেকেই দেখছেন রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, শেষমেশ বিরোধীরা ভোট বয়কটের পথে হাঁটবেন না। তবু একথা অনস্বীকার্য— নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে, গণতন্ত্রের ভিত্তি নড়ে যায়। ভোট শুধুই সংখ্যা নয়, মানুষের অধিকার, যা কখনোই একতরফা সিদ্ধান্তে খর্ব হওয়া উচিত নয়।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
