Mahanayak Uttam Kumar: ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই, মহানায়কের মহাপ্রয়াণের দিন ঠিক কি ঘটেছিল?

পেজ 3

দেবোপম সরকার, কলকাতা: ২৪ জুলাই, ১৯৮০। কলকাতার (Kolkata) আকাশে সেদিনও রোদ ছিল, বাতাসে ছিল বর্ষার গন্ধ। কিন্তু গিরিশ মুখার্জি রোডের গিরিশ ভবনে ছিল শুধুই স্তব্ধতা। বাংলার রুপোলি পর্দার রাজপুত্র, মহানায়ক উত্তমকুমার (Mahanayak Uttam Kumar) সেদিন চিরতরে বিদায় নিলেন তার ভক্ত-দর্শক-পরিবারকে কাঁদিয়ে।

আরও পড়ুন: Suriya: সুরিয়ার ৫০-এর সেলিব্রেশন ভাইরাল, জ্যোতিকার সঙ্গে হৃদয়স্পর্শী মুহূর্তে মুগ্ধ অনুরাগীরা

তার (Mahanayak Uttam Kumar) সেই শেষ ঘর, যেখানে রাজবেশে প্রথম যৌবনের ছবি দেওয়ালে ঝুলছিল। সেই ঘরেই, যেন আরেকবার রাজবেশে শায়িত হলেন মহানায়ক। পরনে গরদের ধুতি, গায়ে ধবধবে সাদা সিল্কের পাঞ্জাবি, চোখ বন্ধ, মুখে প্রশান্তির এক ম্লান হাসি যেন ঘুমিয়ে আছেন কোনও লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশন ছাড়া। শুধু আজ তার মাথায় মুকুট ছিল না। কোঁকড়ানো চুলগুলো যেন বাসি রজনীগন্ধার মতো এলোমেলো। ঘরজুড়ে ছবির পর ছবি—যুব উত্তম, পাশে রবি ঠাকুর, আর রামকৃষ্ণের মুর্তিময় উপস্থিতি। মাঝখানে পাতা খাটে শায়িত স্বপ্নপুরুষ। বাইরের ঘরেও আর তিল ধারণের জায়গা নেই। ভিড় করে দাঁড়িয়ে রয়েছেন হাজারো মানুষ, চোখে অশ্রু, হাতে শ্রদ্ধা।

সকাল সাড়ে নটার দিকে এলেন সত্যজিৎ রায় (Satyajit Ray), অপর্ণা সেন (Aparna Sen), লিলি চক্রবর্তী, কল্যাণী মণ্ডল, মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়। উত্তমকুমারের (Mahanayak Uttam Kumar) জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সব চরিত্র যেন একে একে এসে হাজির হচ্ছেন তার জীবনের শেষ দৃশ্যে। আর সেই ঘরের একপাশে, এক চেয়ারে বসে থাকা একা এক নারী গৌরীদেবী। নিঃশব্দ, নিথর, যেন সময়ের বাইরে। কেউ তাকে বলল, “বৌদি, এবার নিয়ে যাওয়া হবে।” তিনি উঠে দাঁড়ালেন, ধীর পায়ে এগিয়ে এলেন উত্তমকুমারের পাশে। চোখে জল, হাতে সংবরণ। নিজেই সাজালেন তাকে শেষবারের মতো। সেই চেনা যত্ন, সেই গভীর ভালোবাসা শেষ বিদায়ের সাজ।

তরুণকুমার তখন সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামছেন, চোখ ফোলা, কণ্ঠ রুদ্ধ। সারা রাত তিনি কেঁদেছেন। পাশে বসে কাঁদছেন সুব্রতা দেবী। বাইরে ইতিমধ্যেই উত্তেজিত জনতার ঢল, কেউ দেখতে চাইছে তাদের প্রিয় মহানায়ককে শেষবারের মতো, কেউ শোকের চাপে বেপরোয়া হয়ে পড়ছে। পুলিশ সামান্য লাঠিচার্জ করলে উত্তাল জনতা শুরু করে ইঁটবৃষ্টি—কাঁধে এসে লাগে এক পুলিশের। তবু থামে না মহানায়কের যাত্রা। শেষ মুহূর্তে এক ট্রাকে শববাহী গাড়িতে করে রওনা হলেন উত্তমকুমার। বুকফাটা চিৎকারের ভিতর দিয়ে মহানায়ক এগিয়ে চললেন তার অনন্ত সফরে। চন্দন দিয়ে সেই শেষ স্পর্শ দিয়েছিলেন অভিনেতা উজ্জ্বল সেনগুপ্ত—অভিনেতা যীশু সেনগুপ্তের পিতা। আর গৌরীদেবী? সারা রাত চুপচাপ তার পাশে বসেই ছিলেন, যেমন ছিলেন জীবনের প্রতিটি প্রহরে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT