নিউজ পোল ব্যুরো:বর্ষা নামতেই ফের ভয়ঙ্কর রূপ নিল গঙ্গা। নতুন করে নদীগর্ভে তলিয়ে গেল সামশেরগঞ্জের নতুন (Ganga erosion in Shamsherganj) শিবপুর গ্রামের একাংশ। শুক্রবার গভীর রাতে হঠাৎই ধসে পড়ে গ্রামের পাকা রাস্তার প্রায় ১০০ মিটার। সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ভাঙনের জেরে অন্তত ১০টি বাড়ি গঙ্গার গর্ভে চলে যেতে পারে।

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/07/27/plane-crashes-italy-russia-50-dead/
একের পর এক পাড় ভাঙছে, বাড়িঘর ছেড়ে নিজের মালপত্র নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে মানুষ। ঘরছাড়া মানুষজন আশ্রয় নিচ্ছেন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে। কেউ আবার রাত কাটাচ্ছেন খোলা আকাশের নিচে। গত ২০২৩ সালের পর এই প্রথম এত বড় আকারে নতুন শিবপুরে গঙ্গা ভাঙন দেখা দিল। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে ভয়, আশঙ্কা, ক্ষোভ—সব মিলিয়ে চরম উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার রাতেই পরিস্থিতির খবর পেয়ে শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক আমিরুল ইসলাম। সঙ্গে উপস্থিত হন রাজ্যের সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা। দ্রুত পরিকাঠামো নিয়ে শুরু হয় জরুরি পাড় বাঁধার কাজ। নদীর ধারে ফেলা হচ্ছে বালির বস্তা। কিন্তু ততক্ষণে নদীর জলে গিলে ফেলেছে রাস্তাঘাট, আর এখন তাকিয়ে আছে বাড়িগুলোর দিকেও।

বিধায়ক আমিরুল ইসলামের তীব্র অভিযোগ,-“ফরাক্কা ব্যারেজ থেকে একের পর এক অতিরিক্ত জল ছাড়া হচ্ছে, আর সেচ দপ্তরকে না জানিয়েই সেই জল ছাড়ছে কেন্দ্র। তার উপরে গত কয়েকদিনের লাগাতার বৃষ্টিতে গঙ্গার জল এখন কানায় কানায়। সেই প্রবল স্রোতেই এই ধস। আগে ফরাক্কা ব্যারেজের আপ ও ডাউন স্ট্রিম মিলিয়ে ১২০ কিমি এলাকায় ভাঙন রোধের কাজ হতো, এখন করছে মাত্র ১৭ কিমিতে। কেন্দ্র সরকারের এই উদাসীনতাই আমাদের বারবার বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন,-“রাজ্য সরকার একাই ভাঙন প্রতিরোধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। গত ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ২৪৩টি পরিবারকে এক কাঠা করে জমি, ১২২৫টি পরিবারকে পুনর্বাসনের আর্থিক সহায়তা ও গৃহনির্মাণের ব্যবস্থা করেছে রাজ্য। অথচ কেন্দ্র সরকার মুখ ফিরিয়ে রয়েছে। গঙ্গার ভাঙন ঠেকাতে কেন্দ্রেরও সমান উদ্যোগ প্রয়োজন।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
এই মুহূর্তে শিবপুর সহ সামশেরগঞ্জের (Ganga erosion in Shamsherganj) একাধিক নিচু এলাকা ভাঙনের সম্ভাবনায় ভুগছে। ফরাক্কা ব্যারেজ থেকে আরও জল ছাড়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেই আশঙ্কা স্থানীয় প্রশাসনের।
সত্যিই কি গঙ্গার রোষ থেকে বাঁচার উপায় নেই? আর কতবার ঘরছাড়া হবেন এই মানুষগুলো? গঙ্গা তীরে বারবার এই বিপর্যয় যেন প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠছে।
