নিউজ পোল ব্যুরো:২৩ মার্চ রাজ্যে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশকে (West Bengal voter list) কেন্দ্র করে সম্ভাব্য ভিড় ও উত্তেজনা মোকাবিলায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব জেলাশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলাশাসকদের পাশাপাশি জেলার পুলিশ সুপার ও পুলিশ কমিশনারদেরও বিষয়টি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনারকেও নির্দেশিকার কপি পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/03/22/humayun-kabir-ajup-153-candidates-west-bengal-election-2026/
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, সোমবার সন্ধ্যায় রাজ্যের প্রায় ৮০ হাজার বুথে সংশোধিত ভোটার তালিকা (West Bengal voter list) প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন সেইসব আবেদনকারী, যাদের নাম এতদিন “আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন” তালিকায় ছিল। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর প্রায় ৬০ লক্ষ নাম বিচারাধীন অবস্থায় ছিল, যার মধ্যে ইতিমধ্যেই ২৭ লক্ষের বেশি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে।
এদিকে, বিধানসভা নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই রাজ্যে রাজনৈতিক তৎপরতাও তুঙ্গে। বিজেপি নেতৃত্ব এবারের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সামনে রেখে বিস্তৃত প্রচার কর্মসূচির পরিকল্পনা নিয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক জনসভা ও রোডশোর মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছনোর কৌশল নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী কয়েক সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী প্রায় ১০টি জনসভা করতে পারেন। পাশাপাশি এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে কলকাতায় একটি বড় রোডশোর পরিকল্পনাও রয়েছে। শিলিগুড়ি, দুর্গাপুর ও আসানসোলেও অনুরূপ কর্মসূচি হতে পারে, যদিও সব ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন।
দলীয় সংগঠন মজবুত করতে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন ২৪ থেকে ২৬ মার্চের মধ্যে রাজ্য সফরে আসতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। এই সফরে জনসভা নয়, বরং সাংগঠনিক বৈঠকেই জোর দেওয়া হবে। উত্তরবঙ্গ, রাঢ়বঙ্গ, নবদ্বীপ, কলকাতা এবং হাওড়া-হুগলি-মেদিনীপুর—এই পাঁচ সাংগঠনিক অঞ্চলের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
অন্যদিকে, দেশের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রাক্তন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী পবন কুমার চামলিংয়ের দীর্ঘদিন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের রেকর্ড ভেঙে তিনি বর্তমানে দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ও পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মিলিয়ে তাঁর দায়িত্বপালনের সময়সীমা ৮,৯৩১ দিনে পৌঁছেছে।
রাজ্যে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসও নির্বাচনের আগে প্রচার কৌশল জোরদার করেছে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গ থেকে এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দক্ষিণবঙ্গ থেকে সমান্তরালভাবে প্রচার শুরু করতে চলেছেন। ২৪ মার্চ আলিপুরদুয়ারের প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রীর জনসভার মাধ্যমে উত্তরবঙ্গ প্রচারের সূচনা হওয়ার কথা রয়েছে। একই দিনে মাটিগাড়া ও ময়নাগুড়িতেও সভার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচার শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর নন্দীগ্রামেও তাঁর সভা হতে পারে, যা বিরোধী শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে একযোগে প্রচারের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করাই তৃণমূলের মূল লক্ষ্য।
এদিকে, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ৬০.০৬ লক্ষ ভোটার এখনও ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রয়েছেন। এর মধ্যে মুর্শিদাবাদ ও মালদা জেলায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে। মুর্শিদাবাদে প্রায় ১১.০১ লক্ষ এবং মালদায় ৮.২৮ লক্ষ ভোটার এই তালিকায় রয়েছেন। এছাড়া উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং উত্তর দিনাজপুরেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার যাচাইয়ের অপেক্ষায়।
নির্বাচন কমিশনের দাবি, কোনও যোগ্য ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়বেন না। যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরই চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারিত হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী ও সংখ্যালঘু-প্রধান জেলাগুলিতে এই প্রক্রিয়ার প্রভাব নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। এরই প্রেক্ষিতে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশকে ঘিরে রাজ্যে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে তৎপরতা তুঙ্গে।
