নিউজ পোল ব্যুরো: “ভারত মাথা নত করে না, বরং চোখে চোখ রেখে জবাব দেয়,” — ঠিক এই মেজাজেই সোমবার সংসদে গর্জে উঠলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। সাম্প্রতিক সময়ে বহুচর্চিত ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) স্থগিতের পেছনে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ কিংবা কোনও আন্তর্জাতিক চাপ ছিল কি না, এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল রাজনীতির অন্দরে-বাহিরে। অনেকেই মনে করছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বিশেষত ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) হস্তক্ষেপে হয়তো থেমে গিয়েছিল ভারতের সাহসী পালটা পদক্ষেপ। কিন্তু এই জল্পনায় কার্যত জল ঢেলে দিলেন রাজনাথ (Rajnath Singh)।
আরও পড়ুন: Jammu and Kashmir: পহেলগাঁও হামলার বদলার ঝড়! অপারেশন মহাদেবে খতম ৩ জঙ্গি
তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, “কোনও বিদেশি চাপে নয়, ভারতীয় সেনার কৌশলগত সাফল্যই পাকিস্তানকে (Pakistan) যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করেছিল।” রাজনাথের (Rajnath Singh) কথায়, “পহেলগাঁও-তে নৃশংস জঙ্গি (Pahalgam Terror Attack) হামলার পালটা জবাবে আমাদের সেনা মাত্র ২২ মিনিটের মধ্যে সন্ত্রাসবাদীদের ঘাঁটিতে ঢুকে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেয়।” এই তীব্র হামলায় দিশেহারা হয়ে পাকিস্তান ১০ মে রাতে মিসাইল ছোড়ে। কিন্তু ভারতও পালটা জবাবে তাদের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (Air Defence System) ধ্বংস করে দেয়। প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও যোগ করেন, “ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বরং স্পষ্ট হয় যে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারত কোনওরকম আপস করে না।”
এরপরেই আসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। রাজনাথ জানান, ভারত নয়, পাকিস্তানই যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানিয়েছিল। ১২ মে দুই দেশের ডিজিএমও (DGMO)-দের মধ্যে একটি কৌশলগত আলোচনা হয় এবং সেখানেই সংঘর্ষবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অর্থাৎ, এটি কোনও কূটনৈতিক চাপ নয়, বরং ভারতের শক্ত মেজাজ ও কৌশলী পদক্ষেপের ফল।রাজনাথের বক্তব্যে একটা বার্তা স্পষ্ট, ভারতের প্রতিরক্ষা সিদ্ধান্ত দেশের নিরাপত্তা ও কৌশলের উপর নির্ভর করে, বাইরের চাপের উপর নয়। ‘অপারেশন সিঁদুর’ ছিল ভারতের দুঃসাহসিক জবাব, আর সেটির পরিণতি ঠিক করেছিল পাকিস্তান, মাথা নিচু করেই।
২২ এপ্রিল, পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় নিহত হন একাধিক নিরীহ পর্যটক। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ভারত জানিয়ে দেয়, এই হামলার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে। তার পরপরই শুরু হয় কড়া পালটা পদক্ষেপ। পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে শুরু হয় ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’। সেনার এই অভিযান গুঁড়িয়ে দেয় অন্তত ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি। এতদিন পাকিস্তান যেখান থেকে হামলা চালাত, এবার সেই ঘাঁটিতেই ঢুকে সশব্দে জবাব দিল ভারতীয় বাহিনী। কিন্তু পালটা চুপ করে বসে থাকেনি পাকিস্তানও। শাহবাজ শরিফের প্রশাসনের নির্দেশে দেশটির সেনা ভারতের এই প্রতিরোধের জবাবে পাল্টা হামলা চালায়। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে উপমহাদেশ জুড়ে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে হঠাৎ হস্তক্ষেপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তার দাবি, তিনি দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি করিয়েছেন এবং এতে নাকি বাণিজ্যিক আলোচনার প্রভাব ছিল। ট্রাম্পের এই বক্তব্য ঘিরে দেশে রাজনৈতিক বিতর্ক চরমে ওঠে। বিরোধীরা কেন্দ্রীয় সরকারের উপর চাপ বাড়ায়। আসলে কি আমেরিকার হস্তক্ষেপেই থেমে গিয়েছিল অপারেশন সিঁদুর? তবে সেই সময়ে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকই স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—এই সংঘর্ষবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর অনুরোধেই, আমেরিকার চাপে নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বলেন, “ভারতের নিরাপত্তা নীতি কোনও তৃতীয় পক্ষ নির্ধারণ করে না। এটা আমাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।” তা সত্ত্বেও ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার তার হস্তক্ষেপের দাবি করে যান, যা মোদীর সঙ্গে তাঁর ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ সম্পর্কের প্রেক্ষিতে কিছুটা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
