নিউজ পোল ব্যুরো: লুকিয়ে থেকেও শেষ রক্ষা হল না। ভারতীয় সেনা খুঁজে বের করে নিকেশ করেছে পহেলগাঁও-এর বৈসরন উপত্যকায় ধর্ম জেনে করা হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড সুলেমান মুসা ও তার দুই সঙ্গীকে। সন্ত্রাসবাদীদের সম্পর্কে গোপন তথ্য পেয়ে শুরু করা হয় ‘অপারেশন মহাদেব’ (Operation Mahadev ) । তাতেই মেলে সাফল্য। তবে একটা স্যাটেলাইট ফোনই ধরিয়ে দিয়েছে পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ডকে। জঙ্গিদের একটা ভুলেই সুযোগ নিয়েছে ভারতীয় সেনা (Indian Army)। মৃত জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া ডিভাইস থেকেই সামনে আসতে পারে পহেলগাঁও হামলার নেপথ্যের ষড়যন্ত্র।
সোমবার জম্মু-কাশ্মিরে সেনা অভিযানের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা মঙ্গলবার জানিয়েছেন, জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA) একটি দল দাচিগামে অপারেশন মহাদেবে নিহত তিন পাকিস্তানি জঙ্গির মৃতদেহ এবং কবর দেওয়ার আগে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং অস্ত্র পরীক্ষা করবে। ফেডারেল সংস্থা ২২ এপ্রিলের পহেলগাঁও হামলার তদন্ত করছে এবং সন্দেহ করছে যে সোমবার নিহত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রাক্তন কমান্ডো সুলেমান শাহ ৪ জঙ্গির মধ্যে একজন ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেছেন, তিন “বিদেশী সন্ত্রাসীর” মৃতদেহ সোমবার রাতে শ্রীনগরের একটি মর্গে পাঠানো হয়েছে, “যেখানে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে এনআইএ দল তাদের দেহ পরীক্ষা করবে।” তিনি আরও বলেছেন, “তাদের কাছে থাকা ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলিও বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হবে এবং অস্ত্রগুলি পহেলগাম হামলাস্থলে উদ্ধার হওয়া কার্তুজের খোসার সাথে মিলে যাওয়ার জন্য ব্যালিস্টিক দ্বারা পরীক্ষা করা হবে।” তদন্তকারীরা বিশ্বাস করেন যে তিন সন্ত্রাসীর কাছ থেকে উদ্ধার করা ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলি পহেলগাঁও মামলার সমাধানে সহায়তা করতে পারে।
আরও পড়ুন :
কিভাবে চলল এই কিভাবে চলল অভিযান…
সূত্রের খবর, পহেলগাঁও হামলার মাস্টারমাইন্ড মুসা টি৮২ আল্ট্রাসেট কমিউনিকেশন ডিভাইস চালু করে যা একটি স্যাটেলাইট ফোন। এই ফোনই পাক জঙ্গিরা পহেলগাঁও-এর বৈসরন উপত্যকায় হামলা চালানোর সময়ে ব্যবহার করেছিক। স্যাটেলাইট ফোন অন করতেই জঙ্গিদের লোকেশন ট্র্যাক করে ফেলে ভারতীয় সেনা। কোথায় লুকিয়ে রয়েছে সন্ত্রাসবাদীরা সেই তথ্য হাতে চলে আসে ভারতীয় সেনাদের। তখনই শুরু হয় ‘অপারেশন মহাদেব’-এর (Operation Mahadev ) প্রস্তুতি। বেশকিছুদিন জঙ্গিদের গতিবিধি নজর রাখার পর সোমবার সকাল ১১টা থেকে শুরু হয় অভিযান। জঙ্গি দমন অভিযান শুরুর ৪৫ মিনিটের মধ্যে এক জঙ্গি খতম হয়। পরে বাকি দু জনের মৃত্যু হয়।
