Kakrajhor Jhargram tourism:কলকাতার কাছেই টেনিদার জঙ্গল – পাহাড়, নদী, জলপ্রপাত আর নিরিবিলির এক অফবিট স্বর্গ

ভ্রমণ

নিউজ পোল ব্যুরো:পশ্চিমবঙ্গ এমন এক রাজ্য, যেখানে কয়েকশো কিলোমিটারের ভেতরেই মিলিয়ে যায় পাহাড়, নদী, সমুদ্র আর বনজঙ্গল। উত্তরে দার্জিলিংয়ের পাহাড়, দক্ষিণে দীঘা-মন্দারমণির সমুদ্র—সবই জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। কিন্তু খরচ, ভিড় আর ব্যস্ততার ভিড়ে অনেকসময় শান্তিতে ঘুরে বেড়ানো যেন কঠিন হয়ে পড়ে। তাই এই শীতে যারা চান শহরের কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে প্রকৃতির কোলে কয়েকটা দিন কাটাতে, তাদের জন্য উপযুক্ত গন্তব্য ঝাড়গ্রামের কাঁকড়াঝোর (Kakrajhor Jhargram tourism), যা ভালোবেসে অনেকেই ডাকেন “টেনিদার জঙ্গল” (Tenida’s Jungle) নামে।

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/08/03/abhishek-bachchan-sbi-monthly-payment-reason/

ঝাড়গ্রাম বা জঙ্গলমহল এলাকা একসময় মাওবাদী প্রভাবের কারণে পর্যটকদের কাছে ছিল কিছুটা দূরের জায়গা। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে, এবং ধীরে ধীরে কাঁকড়াঝোর জায়গা করে নিচ্ছে বাংলার পর্যটন মানচিত্রে। এখানে এসে আপনি দেখতে পাবেন লাল মাটির আঁকাবাঁকা রাস্তা, ক্ষেতের সবুজ ধানগাছ, মাটির তৈরি ছোট্ট ছোট্ট ঘর, বাড়ির দেওয়ালে রঙিন আলপনা, সকালবেলার কুয়াশায় ভিজে থাকা গাছপালা আর নির্জনতার মধ্যে ভেসে আসা পাখির ডাক—যেন এক জীবন্ত গ্রামীণ চিত্রপট।

কাঁকড়াঝোরের (Kakrajhor Jhargram tourism) সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলা সাহিত্য ও সিনেমার বিশেষ স্মৃতি। বিখ্যাত বাংলা সিনেমা ‘চার মূর্তি’-র শুটিং হয়েছিল এখানেই। আর সেই ছবির নায়ক টেনিদার নামেই স্থানীয়রা এই জঙ্গলকে ডাকেন “টেনিদার জঙ্গল”। সাহিত্যপ্রেমী বা সিনেমাপ্রেমী হলে এই জায়গা আপনাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে অন্য এক সময়ে।

এখানে কাটিয়ে দেওয়া যায় পুরো দিন শুধু প্রকৃতির সান্নিধ্যে। চাইলে স্থানীয় হোমস্টেতে থেকে গ্রামীণ আতিথেয়তার স্বাদ নিতে পারেন। আর যারা একটু অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন, তারা ঘুরে দেখতে পারেন আশেপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো—গাদ্রাসিনি পাহাড়, যেখানে সবুজ আর পাথরের মিলন চোখ জুড়িয়ে দেয়; ঘাঘরা জলপ্রপাত, যার ঠান্ডা জলে পা ডুবিয়ে নিতে পারবেন একটুখানি প্রশান্তি; আর খানদারানি বাঁধ, যা সূর্যাস্ত দেখার জন্য দারুণ জায়গা।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT

শীতকাল এই জায়গা ঘোরার জন্য একেবারেই উপযুক্ত সময়। গরমে এখানে আসা যেমন কষ্টকর, বর্ষায় রাস্তা কাদা হয়ে যায়। কিন্তু শীতে আবহাওয়া মনোরম থাকে, আর কুয়াশা ঢাকা ভোর কাঁকড়াঝোরের সৌন্দর্যকে করে তোলে আরও মায়াবী।

তাহলে এবারের শীতে আপনি কি তৈরি টেনিদার জঙ্গল ভ্রমণের জন্য? হয়তো প্রকৃতির এই শান্ত, নিরিবিলি কোণ আপনাকে দেবে সেই শান্তি, যা ব্যস্ত শহুরে জীবনে আমরা খুঁজে ফিরি।