নিউজ পোল ব্যুরো: ভোটের মুখে রাজ্য ও নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) সংঘাত আরও এক ধাপ চড়ল। ভুয়ো ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত পাঁচ সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে (Manoj Pant) দিল্লিতে (Delhi) তলব করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। কমিশনের কড়া বার্তা, সাসপেন্ড করতেই হবে, না হলে পরিণতি রাজ্যের পক্ষে সুখকর হবে না।
আরও পড়ুন: Agniveers: অগ্নিপথে আশার আলো! অগ্নিবীরদের এবার স্থায়ীকরণের পথে বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত কেন্দ্রের
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) আগেই সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, রাজ্যের অফিসারদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুমতি দেবেন না। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) কড়া অবস্থানে স্পষ্ট, রাজ্য সরকারের সেই অবস্থান তারা মানতে রাজি নয়। কমিশনের অভিযোগ, বারুইপুর পূর্ব এবং ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (AERO) সহ এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটর ভুয়ো ভোটার তালিকায় নাম তোলায় জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর ও সাসপেনশন ছাড়া উপায় নেই।
উল্লেখ্য, সুরজিৎ হালদার নামে এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিল কমিশন। যদিও রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল, ওই কর্মী এবং সুদীপ্ত দাস নামে এক AERO-কে শুধু কমিশনের কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কোনও এফআইআর হয়নি, সাসপেনশনও নয়। এই ‘অপর্যাপ্ত ব্যবস্থা’ নিয়েই ক্ষুব্ধ কমিশন।
বুধবার মুখ্যসচিবকে তলব করে কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আইডি শেয়ার করে ভুয়ো নাম তোলার মতো গুরুতর অপরাধকে হালকা করে দেখার কোনও সুযোগ নেই। কমিশনের মতে, এসআইআর বা স্পেশ্যাল ইন্সট্রাকশনাল রুলস কার্যকর করা হচ্ছে সম্পূর্ণ আইনসিদ্ধ পথে, নির্বাচন ঘোষণার আগে হলেও এই ব্যবস্থা কমিশনের অধিকারভুক্ত।
রাজ্য বনাম নির্বাচন কমিশনের এই সংঘাতে ভোটপূর্ব প্রশাসনিক টানাপোড়েন আরও প্রকাশ্যে এলো। এখন দেখার, কেন্দ্রীয় চাপের সামনে রাজ্য সরকার কতটা নমনীয় হয়। এই সংঘাত আগামী নির্বাচনের রাজনৈতিক চালচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে চলেছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
