নিউজ পোল ব্যুরো: যে কোন সংশোধনী (Amendment) শব্দের অর্থ এমনিতে শুনতে বেশ ভাল, দেখতেও ভাল-খেতে কিরকম প্রশ্ন সেটাই। সোজা কথায়, কার হাতে সেই সংশোধনীর ভার আর তার নিজের কি উদ্দেশ্য এই সংশোধনের পিছনে সংসদীয় গণতন্ত্রের (parliamentary democrecy)কাছে সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন। কেননা যার কাছে ক্ষমতার ডাণ্ডা সে কিভাবে সেই ক্ষমতা ব্যবহার করবে তার উপরেই যে পুরো বিষয়টি নির্ভরশীল। তাই একটু বিস্তারিত আলোচনার দরকার। ২০ আগস্ট ২০২৫, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লোকসভায় ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল (Constitution Amendment Bill) সহ আরও দুটি বিল পেশ করেন । এই বিল (Constitution Amendment Bill) অনুযায়ী, সংশোধনী সংখ্যা (amendment article) ৭৫,১৬৪ ও ২৩৯ এএ কেন্দ্র, রাজ্য, দিল্লী ও ইউনিয়ন টেরিটরির মন্ত্রিদের বিষয়ে। ৭৫ নং সংশোধনীতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ও প্রধানমন্ত্রীও আছেন এই সংশোধনীতে। আর ২৩৯ এএ তে আছে দিল্লী সহ বাকি ইউনিয়ন টেরিটরি। আর ১৬৪ সংশোধনীতে আছে রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর পদ নিতে পারবেন রাষ্ট্রপতি। রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রীর পদ। অন্যান্য রাজ্যের মন্ত্রিদের ব্যাপারে রাজ্যপাল দেবেন মুখ্যমন্ত্রিকে পরামর্শ বিধানসভার অন্যান্য সদস্যের বরখাস্তের সিদ্ধান্তে।
আরও পড়ুন: Mamata Banerjee: মেট্রোর রেলপথে রাজনীতি! উদ্বোধনের দিন স্মৃতির খাতা খুললেন মমতা, পাল্টা বার্তায় মোদী
প্রধানমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী বা কোন মন্ত্রী (Minister),যদি গুরুতর অপরাধে আটক (Criminal offence) বা গ্রেফতার হয়ে ক্রমাগত ৩০ দিন জেলে থাকেন, তবে ৩১তম দিনে তারা পদ হারাতে পারেন । এই বিলকে (Constitution Amendment Bill) ঘিরে বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া ও তীব্র আপত্তি তৈরি হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, বিলকে সর্বোচ্চ নিন্দা . তিনি এক্স (পূর্বে X/Twitter)-এ লিখেছেন: “এটি গণতন্ত্রের সময়ের শেষ, এবং সুপার ইমার্জেন্সির(emergency) চেয়েও ভয়ঙ্কর।” তিনি এটিকে “কালো দিন”,”কালো বিল” (black bill) ও “গণতন্ত্রের উপর হিটলারি আক্রমণ” আখ্যায়িত করেছেন । অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের অন্যান্য নেতারাও বিলের বিরোধিতা করেছেন, বিচার ব্যবস্থার ওপর আঘাত এবং এর উদ্দেশ্যে বিরোধীদলীয় সরকারগুলিকে দুর্বল করার চেষ্টা হিসাবে এই বিলকে ব্যাখ্যা করেছেন । স্বভাবতই এই বিলের বিরুদ্ধে দেশের সর্বত্র এর রাজনৈতিক উত্তাপ ও পার্লামেন্টে হট্টগোল বেড়ে চলেছে। বিল পেশের সময় সংসদে বিরোধীদের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কিছু বিরোধী সাংসদ বিলের কপি ছিঁড়ে ফেলেন এবং তা অমিত শাহকে ছুঁড়ে দেন । জয়েন্ট পার্লামেন্টারি কমিটিতে (joint parliamentary commitee) বিলটি পাঠানোর ঘোষণা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, এই বিল দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও বিচার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে ।
তবে বিরোধীরা এটিকে ভারতীয় একটি সংঘবদ্ধ কাঠামো ধ্বংস করার চেষ্টা ও রাজ্য সরকারের স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন, বিশেষ করে মল্লিকার্জুন খড়গে এই যুক্তি তুলে ধরেছেন । অন্যদিকে, প্রশান্ত কিশোর এই বিলকে সমর্থন করে বলেন, এটি দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ । খুব সংক্ষেপে বলতে গেলে, ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল, ২০ আগস্ট ২০২৫-এ লোকসভায় পেশ করা হয়, যার মূল প্রস্তাব হল—যদি প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রী গুরুতর অপরাধে ৩০ দিন জেলে থাকেন, তবে তাঁর পদ হারাতে হবে। কেন্দ্র দাবি করে এটি দুর্নীতিমুক্ত শাসন ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর চেষ্টা। এদিকে বিরোধীরা এটিকে গণতন্ত্র ও রাজ্য স্বায়ত্তশাসনের ওপর আক্রমণ হিসাবে দেখছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিলকে “গণতন্ত্রের মৃত্যু”, “কালো দিন” ও “সুপার ইমার্জেন্সির থেকেও ভয়ঙ্কর” বলে তীব্রভাবে নিন্দা করেছেন। পার্লামেন্টে বিল পেশের সময়ে হট্টগোল, কপি ছেঁড়া ও নিন্দা-প্রতিবাদে উত্তাল সংসদ। সব বিতর্কের পর এটি পরিচ্ছন্ন করতে জেপিসিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সময়ের সবচেয়ে আলোচিত এই বিল রাজনৈতিকভাবে বিশ্লেষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, এবং এর সামাজিক-রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছেই। যে বিতর্কই সংসদীয় গণতন্ত্রের স্বাস্থ্যের লক্ষ্মণ।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
