নিউজ পোল ব্যুরো: ভারতে গণতন্ত্রকে ঘিরে ফের বড় প্রশ্নচিহ্ন। কেন্দ্রীয় সরকার লোকসভায় আনতে চলেছে ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল(Amendment Bill)। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী(Prime Minister), মুখ্যমন্ত্রী(Chief Minister) কিংবা মন্ত্রিসভার(Minister)অন্য কোনও সদস্য যদি গুরুতর ফৌজদারি মামলায় টানা ৩০ দিন জেলে থাকেন, তবে তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে। মুক্তি পাওয়ার পর ফের পদে ফেরা সম্ভব হলেও এতদিনে সরকার ও প্রশাসন অচল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
প্রথম নজরে মনে হতে পারে, এই সংশোধনী আইনটি জনগণের স্বার্থেই আনা হচ্ছে। কারণ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যদি অপরাধে জড়িয়ে পড়েন, তবে তাঁর দায়িত্বে থাকা উচিত নয়। রিপোর্ট বলছে, দেশের মোট ত্রিশ জন মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে বারো জনের বিরুদ্ধেই রয়েছে ফৌজদারি মামলা। তালিকায় রয়েছেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি, যাঁর বিরুদ্ধে আছে ৮৯টি মামলা, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের বিরুদ্ধে ৪৭টি মামলা, অন্ধ্রপ্রদেশের চন্দ্রবাবু নাইডুর বিরুদ্ধে ১৯টি মামলা। একইভাবে কর্নাটক, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র, কেরালা, পাঞ্জাব ও হিমাচলের মুখ্যমন্ত্রীদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। ফলে আইন কার্যকর হলে একাধিক রাজ্য সরকার রাজনৈতিকভাবে বিপাকে পড়তে পারে।

শুধু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নয়, প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিসভাও এই প্রশ্নের বাইরে নয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভার একাত্তর জন মন্ত্রীর মধ্যে আটাশ জনের বিরুদ্ধেও ফৌজদারি মামলা রয়েছে। অর্থাৎ পুরো বিষয়টি কেবল আইন-শৃঙ্খলা বা নৈতিকতার প্রশ্ন নয়, বরং সরাসরি রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যকে প্রভাবিত করার সামর্থ্য রাখে।
সূত্রের খবর, আগামী বুধবার লোকসভায় সংবিধান সংশোধন বিল পেশ করবেন অমিত শাহ(Amit Shah)। সেই বিলে বলা হয়েছে, গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগে গ্রেপ্তার কিংবা আটক করা হলে, টানা ৩০ দিন বন্দিও থাকলে প্রধানমন্ত্রী(Prime Minister), মুখ্যমন্ত্রী কিংবা অন্য কোনও মন্ত্রীকে পদ থেকে সরে যেতে হবে। এটি হবে ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল। বিলে এই প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে যে, বহিষ্কৃত মন্ত্রীরা মুক্তি পাওয়ার পর ফের পদ ফিরে পেতে পারেন।

এই প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলগুলির অভিযোগ আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাঁদের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার এই সংশোধনীকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেই ব্যবহার করতে চাইছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়(Abhishek Banerjee) বলেছেন, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের বদলে কেন্দ্র শুধুই ক্ষমতা আর সম্পদের লোভে এই পদক্ষেপ করছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আগে নির্বাচন কমিশনকে অপব্যবহার করার চেষ্টা হয়েছে, পরে ইডি-কে ব্যবহার করা হয়েছে, আর এবার সাংবিধানিক পরিবর্তনের মাধ্যমে রাজ্যের সরকার ফেলার পরিকল্পনা করছে বিজেপি(BJP)।এই বিল পেশ করে রাজ্যের সরকারগুলিকে ফেলে দেওয়া ও গণতন্ত্রকে নষ্ট করার চেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। সেই বিতর্কের মাঝেই এবার জানা গেল দেশের মুখ্যমন্ত্রীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার তালিকা।
