নিউজ পোল ব্যুরো: জন্মাষ্টমীর (Janmashtami 2025) শুভক্ষণে দেশজুড়ে যখন শ্রীকৃষ্ণের (Lord Krishna) বাল্যলীলার জয়গান, তখনই মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের (Mohon Yadav) একটি মন্তব্য ঘনীভূত করে তোলে বিতর্কের মেঘ। তার বক্তব্য, কৃষ্ণকে ‘মাখনচোর’ বলা অনুচিত। এহেন নাম নাকি তাকে ছোট করে দেয়। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, শ্রীকৃষ্ণের (Lord Krishna) এই মাখন চুরি ছিল একধরনের প্রতিবাদ! কংসের অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক সাংকেতিক বিপ্লব। তিনি বলেন, “কৃষ্ণ ছিলেন ধনী পরিবারে জন্মানো এক বালক। তার চুরি করার কোনও প্রয়োজন ছিল না। যে মাখন তিনি বন্ধুদের সঙ্গে মিলে খেতেন, তা কেবল রসিকতা নয়, তা ছিল এক প্রতিবাদ, বঞ্চনার বিরুদ্ধে আওয়াজ।”
তার এই বক্তব্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনীতির অঙ্গনে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কটাক্ষ করে বলা হয়েছে, “পুরাণ বদলে ফেলতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী? কৃষ্ণের (Lord Krishna) বাল্যলীলার এই ‘মাখনচুরি’ তো শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গানে, ভজনে, সাহিত্যে ও শিল্পে উদযাপিত হয়ে এসেছে। এখন বিজেপি কি তা-ও পাল্টে ফেলবে?” কংগ্রেসের বিধায়ক উমং সিংহারের প্রশ্ন, “মোহন যাদব কি তাহলে সনাতন ধর্মের আদি কাহিনীরও নতুন সংস্করণ লিখবেন?”
একদিকে ভক্তিরস, অন্যদিকে রাজনৈতিক দর্শনের টানাপোড়েন—‘মাখনচোর’ অভিধা যেন এক নতুন অস্ত্র হয়ে উঠেছে মতাদর্শের যুদ্ধে। শ্রীকৃষ্ণ নিজেই যেখানে বারবার বদলে নিয়েছেন নিজের ভূমিকা। কখনও বন্ধুরূপ, কখনও কূটনীতিক, আবার কখনও অপ্রতিরোধ্য যোদ্ধা, সেখানে তাকে একটা বিশেষ অভিধায় বেঁধে ফেলা কতটা যুক্তিসঙ্গত? তবে সত্যি একটাই! কৃষ্ণ আছেন মানুষের হৃদয়ে, তার লীলাও থাকবে, সে রাজনীতিই হোক বা রাজনীতি থেকে মুক্ত ভক্তি।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
