Hanuman In Space: হনুমান না নীল আর্মস্ট্রং? মহাকাশে প্রথম পা ফেলার গল্পে মিশেছে পুরাণের প্রমাণ

প্রযুক্তি বিজ্ঞান

নিউজ পোল ব্যুরো: একটি সহজ প্রশ্ন, “প্রথম মহাকাশযাত্রী (Hanuman In Space) কে?” উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমরা কি বিজ্ঞানের পথে হাঁটবো, নাকি পুরাণের? এই প্রশ্ন নতুন নয়, কিন্তু সম্প্রতি বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুরের (Anurag Thakur) এক মন্তব্য এটিকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

আরও পড়ুন: Rahul Gandhi: নীতি বদল নাকি পরাজয়ের প্রতিক্রিয়া? রাহুলকে তুলোধোনা করে ‘নৈতিকতা’র ক্লাস নিলেন অমিত শাহ

হিমাচল প্রদেশের একটি স্কুলে ছাত্রছাত্রীরা সঠিকভাবে উত্তর দেয়, “নীল আর্মস্ট্রং (Neil Armstrong)!” যিনি ১৯৬৯ সালে চাঁদের বুকে প্রথম পা রাখেন। কিন্তু অনুরাগ ঠাকুর তাদের থামিয়ে বলেন, “আমার মনে হয় প্রথম মহাকাশযাত্রী ছিলেন হনুমানজি (Hanuman In Space)।” এই বক্তব্য শুনে প্রথমেই চোখে পড়ে ডাবল ভুল। একদিকে ছাত্রদের ভুলে ইউরি গ্যাগারিনের (Yuri Gagarin) নাম না বলা (যিনি ১৯৬১ সালে মহাশূন্যে প্রথম ভ্রমণ করেন), অন্যদিকে একজন নেতার পক্ষ থেকে পৌরাণিক চরিত্রকে ঐতিহাসিক তথ্যের বিকল্প হিসেবে তুলে ধরা। সর্বোপরি, এই ভুলকে কোনোভাবেই সংশোধন না করে উৎসাহ দেওয়া, যা শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ভারতের সংবিধানের 51A (h) ধারা অনুযায়ী, প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব বৈজ্ঞানিক মনোভাব এবং যুক্তিনির্ভর চিন্তা লালন করা। তাহলে প্রশ্ন ওঠে, একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে আমরা কী আশা করবো! আবেগনির্ভর পুরাণচর্চা, না তথ্যভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি? হ্যাঁ, আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে গর্ব থাকা জরুরি। হনুমান মহাভারত বা রামায়ণের চরিত্র হিসেবে আমাদের সংস্কৃতির একটি মূল্যবান অংশ। কিন্তু বিজ্ঞান ক্লাসে বা একটি সাধারণ জ্ঞানভিত্তিক প্রশ্নে তাকে মহাশূন্য অভিযানের পথিকৃৎ বলা মানেই সত্য ও কল্পনার সীমারেখাকে ঘোলাটে করে ফেলা।

ইতিহাস কি কেবল বিশ্বাসের প্রশ্ন?
ট্রয়ের গল্পকে এক সময় কল্পকাহিনী ভাবা হতো, কিন্তু প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ একে বাস্তব ইতিহাসে রূপান্তর করেছে। ভারতের দ্বারকা নিয়েও কিছু প্রমাণ মিলেছে, যদিও তা এখনো বিতর্কের মধ্যে। কিন্তু হনুমান (Hanuman In Space) বা অন্য পৌরাণিক চরিত্রদের মহাকাশ ভ্রমণের কোনো বস্তুগত প্রমাণ নেই। এই প্রেক্ষাপটে, ইতিহাস ও পুরাণকে সমানভাবে শেখানো উচিত নয়। পুরাণ শেখাতে কোনো আপত্তি নেই, তবে সেটি হওয়া উচিত পুরাণ হিসেবেই, ইতিহাস নয়।

শিক্ষাব্যবস্থা: বিশ্বাস না প্রমাণের পক্ষে?
যখন ছাত্ররা নীল আর্মস্ট্রংয়ের নাম বলল, তখন অন্তত তাদের মধ্যকার বিজ্ঞানমনস্ক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছিল। কিন্তু ঠাকুরের মন্তব্য সেই বিশ্বাসের ভিতেই এক ধরণের নাড়াচাড়া করলো। যদিও পরে তিনি ইউরি গ্যাগারিনের কথাও উল্লেখ করেন, কিন্তু সেটি যেন ছিল নিজের মন্তব্য ঢাকতে একরকম ‘বিপরীত সুর’।সবথেকে বড় প্রশ্ন, স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সত্য ও গল্পের পার্থক্য গড়ে তুলতে আমরা কতটা মনোযোগী? কেবল গর্ব জাগানো নয়, তাদেরকে সমালোচনামূলক চিন্তা শেখানো, তথ্য যাচাই করতে শেখানো এবং যুক্তির আলোতে সত্য খুঁজতে উদ্বুদ্ধ করাই হওয়া উচিত শিক্ষার মূল লক্ষ্য।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole