নিউজ পোল ব্যুরো: মানবসভ্যতার ইতিহাসে সরলতা ও সততা (honesty) একসময় মানুষের জীবনের অন্যতম প্রধান গুণ হিসেবে বিবেচিত হতো। সমাজে একজন সৎ মানুষকে (Lord Buddha) শ্রদ্ধার আসনে বসানো হতো, তার (Lord Buddha) কথাই ছিল মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য। ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজনীতি কিংবা ব্যক্তিগত জীবনে সততা ছিল উন্নতির মূল চাবিকাঠি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমাজের ধরণ পাল্টেছে। আজকের দিনে অনেকেই মনে করেন, শুধুমাত্র সরলতা ও সততার(honesty) উপর ভরসা করলে এগিয়ে যাওয়া কঠিন; বরং চালাকি ও বুদ্ধির খেলা দিয়েই সফল হতে হয়।
বর্তমান যুগ প্রতিযোগিতার যুগ। চাকরি, ব্যবসা বা রাজনীতি— সর্বত্র টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন দক্ষতার পাশাপাশি কৌশল। এখানে অনেকে দেখিয়ে দেন যে, সরলতা বা অতিরিক্ত সততা প্রায়ই দুর্বলতা হিসেবে বিবেচিত হয়। অনেক সময় সৎ মানুষ প্রতারণার শিকার হন, আর যারা চালাক ও চতুর তারা সুযোগ নিয়ে সফল হয়ে ওঠেন। সমাজের এই বাস্তব চিত্র থেকেই জন্ম নিয়েছে এই নতুন ভাবনার উক্তি — “সরলতার যুগ শেষ, এখন চালাকির দ্বারা চলতে হয়।”
আরও পড়ুন: Kolkata: শহর ছাড়াই অন্য দেশে ভ্রমণ! কলকাতার তিন সংস্কৃতির ঠিকানা
সরল হওয়া খারাপ নয়। কিন্তু বর্তমান যুগে যদি কেউ সফল হতে চায় তাহলে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। কারণ যে সাকসেস হয়েছে তার মধ্যে বেশিরভাগ সফল মানুষেরই জীবন লক্ষ্য করলে দেখা যাবে তাঁরা কিছু নিয়ম মেনে চলে। সেগুলি কিছুটা এই রকম সবার কাছে সব কিছু মেলে ধরতে নেই। নিজের দুঃখ নিজের কাছেই রাখা ভাল। নিজের বলে সেটা আম জনতার কাছে বলে দিলে আখেরে লোকসানের কড়ি গুনতে হয়। সঠিক সময়ে সঠিক শব্দ প্রয়োগ করতে হবে। এবং শব্দ প্রয়োগে যত্ন নিতে হবে। জিততে হলে সাবধানে কথা বলতে হয়। দেখা যায়, কর্পোরেট জগৎ (corporate) থেকে শিল্পপতি সকলেই অত্যন্ত সাবধানে শব্দ চয়ন করেন। আর তার দ্বারাই তিনি (Lord Buddha) যে কোন পরিস্থিতি হ্যান্ডেল করেন।
মানুষ হিসেবে তুমি কতটা মহান সেটা লোকে তোমাকে সার্টিফিকেট দেওয়ার আগে তোমার নিজেকেই নিজে দিতে হবে। তোমার সম্মান তোমার নিজের কাছে। তুমি আগে নিজেকে সম্মানিত করলে তবেই লোকে তোমাকে সম্মান দিতে বাধ্য থাকবে। রাগলে চলবে না। সর্বদা অভিব্যক্তি প্রকাশ করে দিলে লোকে তার সুযোগ নেবে আর তোমাকে রাগিয়ে দেবে। আর রাগ হল সেই দোষ যা একবার লোকে বুঝে ফেললে তোমাকে রাগিয়ে দেবে। রাগী মানুষের বুদ্ধি কমে যায়। ফলে সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধা হয়। উদ্দেশ্য ছাড়া কেউ আপন না। প্রত্যেকে তার নিজের স্বার্থে তোমার সাথে নিজেকে জড়িয়ে নেবে। আর কাজ ফুরিয়ে গেলে তোমাকে ছেঁড়া কাগজের মত দূরে ফেলে দেবে। কাজ ফুরিয়ে গেলে তোমাকে কেউ পরোয়া করবে না। ধৈর্য না থাকলে চলবে না। সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তাড়াহুড়ো করলে চলবে না। ধৈর্য ধরে নিজের ভাল সময়ের জন্যে অপেক্ষা করতে হবে। বাজে কথা বলবে না। কাজের কথা বল। কাজের কথা ছাড়া অপ্রাসঙ্গিক কথা শেষ পর্যন্ত বাজে যুক্তি- বুদ্ধির দিকে নিয়ে যায়। অন্যের মেজাজ বুঝে চলতে হয়। অন্যের মনের ধারা বুঝে না চলতে পারলে জীবনে পদে পদে হোঁচট খেতে হবে।
সবসময় চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বল। যেটা নিজে বিশ্বাস করো সেটা দৃঢ়তার সাথে বলতে হবে। সেখানে কোন দ্বিচারিতাকে এড়িয়ে গেলে চলবে না।
সৎ হলেই সব সময় সত্য কথা বললে চলবে না। অশ্বথামা হত ইতি গজ– কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের এই কৌশলের কথাও জীবনে মনে রেখে চলতে হবে। নিজেকে দুর্বল ভেবনা। মনে রাখতে হবে সাহসের সঙ্গে যে কোন বিপদের মোকাবিলা করে তার কাছে শারীরিক সবলতাই শেষ কথা নয়। শেষ পর্যায়ে মানসিক শক্তি আর বুদ্ধিই শেষ বাজি জিততে মানুষকে সাহায্য করে। নিজের কাজের সীমার গণ্ডি টানবে না। কঠিন কাজের মুখোমুখি হওয়া শিখতে হবে। জীবনের চলার পথে যত কঠিনতা তাকে শক্ত হাতে মোকাবিলা করার জন্যই মানুষ জন্ম। নিজের জীবনী (biography) নিজেই লেখ। অন্যের হাতে নিজেকে সঁপে দিলে সে তার নিজের জীবনীতে তোমাকে একটা ব্যবহারের মাধ্যম হিসেবে ধরে নেবে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
সব শেষে বলতে পারি ,নির্লজ্জ এবং লক্ষ্যহীন লোকের সঙ্গে থাকতে নেই। কথায় বলে সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস আর অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ। যার নিজের কোন লক্ষ্য নেই। জীবনের কোন গতিপথ নেই তার সঙ্গ কখনই ভাল হতে পারে না।
তবে একথা অস্বীকার করা যায় না যে, সততা (honesty) এখনও মানুষের চরিত্রের মৌলিক গুণ, আর দীর্ঘমেয়াদে এর মূল্য সবসময়ই টিকে থাকে। চালাকি দিয়ে হয়তো সাময়িক সাফল্য আসতে পারে, কিন্তু আস্থা ও সম্মান অর্জনের জন্য সততার বিকল্প নেই। তাই বলা যায়, আজকের যুগে শুধুমাত্র সততা নয়, বরং সততার সঙ্গে বুদ্ধি ও কৌশলের মিশ্রণেই মানুষ সত্যিকারের সফল হতে পারে।
