রবিবার শ্রীরামপুরে দলের মহিলা সাংসদদের ভূমিকা নিয়ে ফের চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শ্রীরামপুরের বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Bandyopadhyay criticism)। তিনি অভিযোগ করেছেন, “আমাকে সংসদে যখন হুমকি দেওয়া হয়েছিল, সেই সময় তৃণমূলের মহিলা সাংসদরা চুপচাপ বসে ছিলেন। সমর্থন করা তো দূরের কথা, কেউ প্রতিবাদও করেননি।” তাঁর এ মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/08/31/shamik-bhattacharya-rakesh-singh-congress-attack/
কল্যাণ আরও বলেন, দলের অনেক বিষয় দিদি তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছলেও সব কথা পৌঁছয় না, মাঝপথে ফিল্টার হয়ে যায়। এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই দলের অভ্যন্তরীণ অঙ্গনে অস্বস্তি তৈরি করেছে।
উল্লেখযোগ্য, এর আগে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের সঙ্গে কল্যাণের প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বের ঘটনা ঘটেছিল। তখন দলের চাপে তিনি চিফ হুইপ পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন। এরপর কাকলি ঘোষ দস্তিদার চিফ হুইপ হন এবং ডেপুটি লিডারের দায়িত্ব দেওয়া হয় শতাব্দী রায়কে। তৃণমূল নেতৃত্ব সেই সময় স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল, দলের মধ্যে মহিলা সাংসদদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে এবার কল্যাণ ফের সেই মহিলা সাংসদদের দিকেই তির ছুঁড়েছেন।
কল্যাণ (Kalyan Bandyopadhyay criticism) বলেন, “রমেশ বিধুড়ী সংসদে মহুয়া সম্পর্কে যে অশালীন মন্তব্য করেছিলেন, তা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঠিক সেই সময়ে রাজীব প্রতাপ রুডি মহুয়াকে সমর্থন করতে গিয়ে আমাকেও হুমকি দিয়েছিলেন। ডেপুটি লিডার শতাব্দী রায় তখন উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু কোনও প্রতিবাদ করেননি। মহুয়া তো কিছু বলেইনি। সেই সময় সমাজবাদী পার্টির সাংসদরা আমাকে সমর্থন করেছিলেন।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
কল্যাণের এই মন্তব্যে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, বিজেপির সাংসদরা যখন আক্রমণ করেন, তখন তৃণমূলের মহিলা সাংসদরা চুপ করে বসে থাকেন। তিনি যখন চিফ হুইপ ছিলেন, দলের হয়ে সরাসরি প্রতিবাদ করেছিলেন, তবে বর্তমান সময়ে সেই দৃঢ়তা আর দেখা যাচ্ছে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘ সময় নীরব থাকার পর কল্যাণের মুখ খোলা নতুন করে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। দলের অভ্যন্তরে এই মন্তব্যের প্রভাব কেমন হবে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
