নিউজ পোল ব্যুরো: আসামের শোণিতপুর জেলার রাঙ্গাপাড়ার বাসিন্দা, ৩৪ বছরের শিক্ষক দেবজিৎ ঘোষ এবার পেলেন জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার ২০২৫ (Teachers Day Award 2025)। ডিব্রুগড়ের (Dibrugarh) নামসাং টি গার্ডেন মডেল স্কুলের অধ্যক্ষ হিসেবে প্রতিদিন তিনি প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেন যে পথ দেহিং পাটকাই জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়ে গেছে, যেখানে হাতির ঝাঁকের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা, আবার বৃষ্টিতে রাস্তা হয়ে ওঠে কর্দমাক্ত ও বিপজ্জনক। তবুও শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাতে প্রতিদিন এই ভয়ংকর পথ অতিক্রম করেন তিনি।
আরও পড়ুন:Bidhannagar Police: ফেক ট্রাফিক চালানের ফাঁদে প্রতারণা, গ্রেফতার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র
২০২২ সালে স্কুলটির দায়িত্ব নেওয়ার সময় পরিস্থিতি ছিল হতাশাজনক। প্রাথমিক স্তরের পর শিক্ষার সুযোগ না থাকায় চা বাগানের প্রায় ২৬৭ জন শিশু স্কুল ছেড়ে দিয়েছিল। মাত্র দুই বছরের মধ্যেই দেবজিৎ ঘোষের উদ্যোগে সেই শিশুরা ফিরে এসেছে শ্রেণিকক্ষে। বর্তমানে স্কুলে পড়ুয়া সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২৬। শুধু পড়াশোনাই নয়, তিনি শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্যোগী হন। একটি স্বাস্থ্য শিবিরে যখন শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারাত্মক অপুষ্টি ধরা পড়ে, তখন দেবজিৎ ঘোষ প্রধানমন্ত্রী-পোষণ কর্মসূচির মাধ্যমে স্কুলের খাবারে সবুজ শাকসবজি ও পরিপূরক খাবার যুক্ত করেন। এর ফলে ১৬৫ জন শিশুর হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বেড়েছে।
ফলাফলও আশাব্যঞ্জক। স্কুলের প্রথম এইচএসএলসি পরীক্ষায় যেখানে পাশের হার ছিল মাত্র ৪৪ শতাংশ, পরের বছর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯০ শতাংশে। আজ শিক্ষার্থীরা কেবল পড়াশোনাতেই নয়, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও সমানভাবে অংশ নিচ্ছে। দেবজিৎ ঘোষ বলেন, “আমি যদি এখানে না থাকি, তবে স্কুলের উন্নয়ন সম্ভব হবে না। আমার গাড়িতে আমি আরও দুজন শিক্ষককে নিয়ে যাই, বাকিরা সাইকেলে আসেন কারণ এখানে কোনও পাবলিক ট্রান্সপোর্ট নেই।”
শিক্ষক জীবনের শুরুটা (Teachers Day Award 2025) হয়েছিল ২০১৩ সালে ডিব্রুগড় বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখানেই তিনি প্রথম উপলব্ধি করেন শুধু নম্বর নয়, বরং কৌতূহলই শিক্ষার আসল শক্তি। সেই বিশ্বাস নিয়েই আজ তিনি চা বাগানের শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ছেন। জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার (Teachers Day Award 2025) প্রাপ্তির খবর শুনে আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন দেবজিৎ ঘোষ। “এটা আমার কাছে এক পরম সৌভাগ্য। আমার বাবা-মা আমার শিক্ষার জন্য যে সংগ্রাম করেছেন, আর প্রয়াত কাকা তড়িত ঘোষ যেভাবে পাশে থেকেছেন এই সম্মান তাঁদের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন। চা বাগানের শিশুদের জন্য আশার আলো হয়ে উঠেছেন দেবজিৎ ঘোষ। তাঁর গল্প (Teachers Day Award 2025) প্রমাণ করে একজন নিষ্ঠাবান শিক্ষক চাইলে গোটা প্রজন্মের ভবিষ্যৎই বদলে দিতে পারেন।
