নিউজ পোল ব্যুরো:টলিউডে কমেডি বললেই আজ চোখের সামনে ভেসে ওঠে কাঞ্চন মল্লিক, খরাজ মুখার্জী, শুভাশিস মুখোপাধ্যায় কিংবা বিশ্বনাথ বসুর নাম। অথচ একসময় তাঁদের সমানতালে জনপ্রিয় ছিলেন অভিনেতা সুনীল মুখোপাধ্যায় (Sunil Mukhopadhyay comedian)। অসংখ্য ছবিতে তিনি চোর, চাকর, গরিব বা মাতালের মতো ছোট চরিত্রে এমন অসাধারণ অভিনয় করতেন যে কয়েক মিনিটের উপস্থিতিতেই দর্শককে হাসাতেন, কাঁদাতেন আর মুগ্ধ করতেন। তবু জীবনের শেষ অধ্যায়ে সেই প্রতিভাবান মানুষটিই রয়ে গেলেন চরম অবহেলার শিকার। অর্থের অভাবে প্রাপ্য চিকিৎসাও পাননি, সম্মান তো আরও দূরের কথা।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/09/07/durga-puja-holiday-mousuni-island-tour-kolkata/
১৯৪৬ সালে বাংলাদেশের যশোরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সুনীল মুখোপাধ্যায় (Sunil Mukhopadhyay comedian)। পরে পরিবার নিয়ে চলে আসেন কলকাতায়। খুব অল্প বয়সেই তাঁর হাতে খড়ি হয় মঞ্চাভিনয়ে, উৎপল দত্তের নাট্যদলেই শুরু হয় সেই যাত্রা। সেখান থেকেই সিনেমায় পা রাখা। প্রথম ছবির কাজ কলকাতা ৭১ থেকে তাঁর অংশ বাদ পড়লেও বুদ্ধদেব দাশগুপ্তর নিম অন্নপূর্ণায় মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কেড়েছিলেন। এরপর ধীরে ধীরে অমৃত কুম্ভের সন্ধানে, খারিজ, কালবেলা, আবার অরণ্যেসহ একাধিক ছবিতে নিজের অসামান্য প্রতিভার পরিচয় দিয়েছিলেন। কাজ করেছেন দিলীপ রায়, মৃণাল সেন, গৌতম ঘোষের মতো প্রখ্যাত পরিচালকদের সঙ্গেও। সিনেমার পাশাপাশি মঞ্চ এবং টেলিভিশনেও সমানভাবে জনপ্রিয় ছিলেন তিনি।
৯০-এর দশকে টলিউডে অন্যতম সেরা কমেডিয়ান হিসেবেই তাঁর নাম উচ্চারিত হতো। পেয়েছেন সম্মান, পেয়েছেন পুরস্কার, কিন্তু সেই তুলনায় কখনও পাননি আর্থিক স্বচ্ছলতা। জীবনের শেষদিকে শরীর ভেঙে গিয়েছিল, তবুও অভিনয় চালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। একবার একটি দৃশ্যে দুর্বলতার কারণে একটি দুর্ঘটনাও ঘটে যায়, যা নিয়ে প্রোডাকশন হাউসের সঙ্গে ঝামেলায় জড়াতে হয়েছিল তাঁকে। অথচ পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মাত্র কয়েকজন সহকর্মী, বাকিরা দূরে সরে গিয়েছিলেন। ধীরে ধীরে একঘেয়ে চরিত্রে বিরক্ত হয়ে কাজও কমিয়ে দেন তিনি। আক্ষেপ করে বলতেন, “গরিব, নিঃস্ব, চোর, মাতালের রোল দিয়েছি বাঙালিকে। আমি কী পেলাম?”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttp://:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
শেষ জীবনে যক্ষ্মা বাসা বাঁধে তাঁর শরীরে। ২০১২ সালে তিনি মারা যান। অথচ মৃত্যুর দিন তাঁর শেষকৃত্যে টলিউড থেকে প্রায় কেউই উপস্থিত ছিলেন না। যে মানুষ জীবনের পর জীবন ছোট চরিত্রে থেকে দর্শকের মনে অমোঘ ছাপ রেখে গেছেন, হাসির আড়ালে যিনি বাঙালির কাছে পৌঁছে দিয়েছেন জীবনের নানা ছবি, সেই মানুষটিই অবশেষে চলে গেলেন এক বুক আক্ষেপ, অভিমান আর অবহেলা নিয়ে। আজ টলিউডের আড়ালে তাঁর অবদান প্রায় বিস্মৃতির অন্ধকারেই চাপা পড়ে আছে।
