নিউজ পোল ব্যুরো: রাহু-কেতু আসলে কোনও রাক্ষস নয়, বরং কেবল পুরাণে (Mythology) প্রচলিত কাহিনি। ছোটবেলা থেকেই অনেকের কানে এসেছে যে চন্দ্রগ্রহণ (Lunar Eclipse) নাকি অসুর স্বরভানুর দুই দেহাংশ, যাকে বলা হয় রাহু-কেতু। সমুদ্র মন্থনের গল্পে (Samudra Manthan) বলা হয়, দেবতা ও অসুরদের মধ্যে অমৃত ভাগাভাগির সময় ছলনা করে অমৃত পান করেছিলেন অসুর স্বরভানু। বিষ্ণু দেব তখনই সুদর্শন চক্র দিয়ে তার মুণ্ডচ্ছেদ করেন। মাথা ও শরীর পৃথক হয়ে যায়- মাথা হল রাহু, দেহ হল কেতু। সেই থেকেই নাকি গ্রহণ হয়।
আরও পড়ুন: Akshay Kumar: জুহু সৈকতে সাফাই অভিযানে অক্ষয় কুমার, উঠল ‘লোকদেখানো’র অভিযোগ
কিন্তু এই ধারণা নিছক অমূলক ও ভিত্তিহীন। বহু বছর আগেই বিজ্ঞান (Science Awareness) প্রমাণ করেছে যে গ্রহণ কোনও দৈত্য-দানবের কাজ নয়, বরং গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানের কারণে ঘটে যাওয়া স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ঘটনা (Astronomy Phenomenon)। আসলে চাঁদের (Moon) নিজস্ব কোনও আলো নেই। সূর্য (Sun), পৃথিবী (Earth) ও চাঁদের অবস্থান এক সরলরেখায় এসে গেলে পৃথিবী সূর্যের আলো আটকে দেয়। ফলে সূর্যের আলো চাঁদে পৌঁছয় না এবং সেটাই দেখা যায় চন্দ্রগ্রহণ হিসেবে।

এই বৈজ্ঞানিক সত্যকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে এবং কুসংস্কার (Superstition) ভাঙতে প্রতি বছর উদ্যোগ নেয় পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ (Paschim Banga Bigyan Mancha)। এ বছর ৭ই সেপ্টেম্বর পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ বা Blood Moon উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে আয়োজন করা হয়েছিল বিশেষ শিবিরের (Science Camp)। যাদবপুর-বাঘাযতীনের রায়পুর গার্লস হাইস্কুল, কাঠগোলা মাঠ (সিথি সাউথ), কসবা, তিলজলা, পার্কসার্কাস, ঢাকুরিয়া, বেহালা সহ বহু জায়গায় টেলিস্কোপ (Telescope) বসিয়ে খালি চোখে ও আইপিসে চাঁদ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়।

শত শত মানুষ, বিশেষত ছাত্র-ছাত্রীরা, অংশ নেন এই কর্মসূচিতে। কোথাও আয়োজন করে স্কুল কর্তৃপক্ষ, কোথাও স্থানীয় ক্লাব, আবার কোথাও সরাসরি পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ। রায়পুর গার্লস স্কুলের শিবিরে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কলকাতা জেলা সম্পাদক শেখ সোলেমান এবং কার্যকরী সভাপতি সঞ্জয় ঘোষ।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
চন্দ্রগ্রহণ মানেই খাওয়া-দাওয়া বন্ধ রাখা বা গঙ্গা স্নানের মতো কুসংস্কারকে ভেঙে দেওয়া হয় এই শিবিরে। পুরো গ্রহণ চলাকালীন চলে চা-বিস্কুট, মুড়ি-মাখা থেকে রাতের খাবারও। লিফলেটের (Leaflet Campaign) মাধ্যমে প্রচার করা হয়—গ্রহণের সময় রান্না খাবারে কোনও বিষক্রিয়া হয় না, স্নান বাধ্যতামূলক নয় এবং খাবার ফেলে দেওয়ার দরকারও নেই। এভাবেই Science vs Superstition এর লড়াইয়ে জয়ী হল বিজ্ঞানচেতনা। মানুষের কাছে বার্তা গেল ‘বিশ্বাস নয়, যুক্তিতে ই মুক্তি।’
