History of Germany: লিপিরও আগে লেখার ইঙ্গিত! ৪০ হাজার বছরের প্রাচীন নিদর্শনে চমক গবেষকদের

বিজ্ঞান

নিউজ পোল ব্যুরো: ইতিহাসের পাতায় স্বীকৃত লিপির বয়স কয়েক হাজার বছর মাত্র। কিন্তু মানবসভ্যতার স্মৃতি কি ততটাই সীমাবদ্ধ? (History of Germany) প্রত্নতত্ত্ববিদেরা জানাচ্ছেন, গুহার দেওয়াল, পাথরের খোদাই কিংবা প্রতীকের পুনরাবৃত্ত নকশায় লুকিয়ে রয়েছে আরও প্রাচীন যোগাযোগের ইঙ্গিত। সংগঠিত ভাষা না থাকলেও ভাব প্রকাশের এক ধারাবাহিক প্রয়াস যে চলত, তার প্রমাণ মিলেছে নানা মহাদেশে। সেই সব চিহ্নের বয়স চল্লিশ হাজার বছরেরও বেশি, যা লেখার ইতিহাসকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

আরও পড়ুন:Photoshoot: স্পষ্ট ছবিকে বিদায়? নস্টালজিয়ার নেশায় ‘ব্লারি’ ছবিতেই মজেছে জেন জি!

প্রাচীন কালে কোনও লিপিই (History of Germany) এখনকার মতো ছিল না। কিউনিফর্ম হোক, বা হায়ারোগ্লিফিক সবই ছিল চিত্রলিপি। নির্দিষ্ট কিছু নকশা এঁকে সেই লিপি লেখা হত। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, নির্দিষ্ট কিছু চিহ্নের সাহায্যে মানুষ বিভিন্ন তথ্য বোঝাতে পারত। সেগুলিকে সেই অর্থে লেখালিখি বলা না গেলেও, লেখালিখি শুরুর ঠিক আগের পর্ব বা লেখালিখির চেষ্টা বলে ব্যাখ্যা করা যায়। এমনটাই মনে করছেন গবেষকেরা।

দক্ষিণ-পশ্চিম জার্মানিতে প্রায় ২২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে স্বাবিয়ান জুরা পর্বতশ্রেণি। কেউ কেউ একে স্বাবিয়ান আল্প্‌সও বলেন। অতীতে এই অঞ্চল থেকে বহু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন মিলেছে। লিপি আবিষ্কারের আগে লেখালিখির চেষ্টার উদাহরণও মিলেছে এখান থেকেই। জার্মানির সারল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্রিস্টিয়ান বেন্টজ এবং বার্লিন জাদুঘরের প্রত্নতাত্ত্বিক এভা দুতকিভিৎজ যৌথ ভাবে এই গবেষণাটি করেন। তাঁরা স্বাবিয়ান আল্প্‌স থেকে পাওয়া ২৬০টি প্রাচীন শিল্পকর্ম বিশ্লেষণ করে দেখেন। এর মধ্যে রয়েছে খোদাই করা শিং, হাড়, হাতির দাঁত-সহ বিভিন্ন বস্তু।

বেন্টজ় এবং দুতকিভিৎজ (History of Germany) এগুলি বিশ্লেষণ করে প্রায় ৩০০০ জ্যামিতিক চিহ্ন খুঁজে পান। এর মধ্যে কিছু রেখা, কিছু খাঁজ, কিছু বিন্দু আবার কিছু ‘ক্রস’ চিহ্ন রয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, বস্তুগুলির যা আকার, সেই তুলনায় এই নকশাগুলির অনেক বেশি ঘনত্ব ছিল। বস্তুগুলির তুলনায় তার উপরে খোদাই করা জ্যামিতিক নকশাগুলিই সেখানে মূল বিষয় হয়ে উঠেছিল।

গত সোমবার ‘পিএনএএস’ (History of Germany) জার্নালে এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলা হচ্ছে, এই চিহ্নগুলি লেখার আধুনিক পদ্ধতি থেকে অনেক আলাদা। তবে ‘প্রোটো-কিউনিফর্ম’ লিপির (কিউনিফর্ম লিপির ঠিক আগের পর্যায়) সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে এর মিল রয়েছে বলে দাবি গবেষকদের। বিশেষ করে প্রোটো-কিউনিফর্ম লিপির মতোই জটিল এবং তথ্যের ঘনত্ব (একসঙ্গে অনেক বেশি চিহ্ন) দেখা গিয়েছে প্রাচীন কালের এই নকশাগুলিতে। বেন্টজ়ের কথায়, “এগুলির মধ্যে খুবই মিল রয়েছে। সত্যি বলতে প্রাচীন প্রোটো-কিউনিফর্মের চেয়ে এগুলিকে আলাদা করা যায় না। আমাদের কাছে এটি সত্যিই আশ্চর্যের বিষয়। কারণ, এই চিহ্নগুলির সঙ্গে লেখালিখি শুরুর প্রাথমিক পর্বের এতটা সামঞ্জস্য থাকবে, তা আমরা ভাবিইনি।”

এই চিত্রলিপি কাদের তৈরি, তা পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে যে সময়কালের কথা বলা হচ্ছে, ততদিনে আধুনিক মানুষ (হোমো সেপিয়েন্স) ইউরোপে পৌঁছে গিয়েছিল। ফ্রান্সে আনুমানিক ৫৪-৫৭ হাজার বছর আগে আধুনিক মানুষ পৌঁছে গিয়েছিল। জার্মানিতেও আধুনিক (History of Germany) মানুষের অস্তিত্বের প্রাচীনতম উদাহরণ মিলেছে ৪৫ হাজার বছর আগে। ঘটনাচক্রে, জার্মানিতে আধুনিক মানুষের অস্তিত্বের প্রাচীনতম প্রমাণের সঙ্গে মিলে যায় এই লেখালিখির চেষ্টার উদাহরণ

তবে এই জ্যামিতিক চিহ্নগুলির মাধ্যমে কী অর্থ বোঝানোর চেষ্টা হয়েছে, তা এখনও উদ্ধার করে উঠতে পারেননি বেন্টজ এবং দুতকিভিৎজ। নকশাগুলির নির্দিষ্ট কিছু ‘প্যাটার্ন’ বা ধারা রয়েছে। যেমন পর পর কিছু রেখা, বা পর পর কিছু ‘ক্রস চিহ্ন’। এ ছাড়া কিছু ক্ষেত্রে আবার মানুষ এবং প্রাণীর চেহারাও খোদাই করার চেষ্টা হয়েছে বলে মনে করা হয়। সে ক্ষেত্রেও কিছু নির্দিষ্ট ‘প্যাটার্ন’ রয়েছে। যেমন, প্রাণীর চেহারা যেখানে খোদাই করা হয়েছে, সেখানে ‘ক্রস’ চিহ্ন রয়েছে। তবে মানুষের চেহারার সঙ্গে কখনওই ‘ক্রস’ খোদাই করা হয়নি। অর্থাৎ, মানুষের চেহারার সঙ্গে ওই চিহ্ন ব্যবহার করা যাবে না, এমন একটি রীতি ছিল।

তবে এগুলি যে কোনও শুধুই খোদাই করা কোনও আঁকিবুকি নয়, তা মেনে নিচ্ছেন প্রত্নতাত্ত্বিকদের (History of Germany) একাংশ। ইংল্যান্ডের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রবার্ট কেন্ট্রিজ (যিনি এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না)-এর কথায়, “আমরা জানি না ওই চিহ্ন এবং নকশাগুলি দিয়ে কী বোঝানোর চেষ্টা হয়েছে। তবে সেগুলির মাধ্যমে নিশ্চিত ভাবে কোনও তথ্য জানানো হয়েছে। এগুলি শুধুই এলোমেলো ভাবে খোদাই করা কোনও বস্তু নয়।”

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole