নিউজ পোল ব্যুরো: ৩৬ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে ঘটেছিল এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন। সমুদ্রের গণ্ডি পেরিয়ে মাছ তখন শিখছিল ডাঙায় ওঠা। (Evolution, Fish to Tetrapod Transition) পাখনা থেকে ধীরে ধীরে গড়ে উঠতে শুরু করল পা, তারপর পায়ের আঙুল। কোটি কোটি বছরের বিবর্তনের পর সেই পা-ই মানুষের ক্ষেত্রে রূপ নিল হাতে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা সেই ইতিহাসের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
আরও পড়ুন: Gold Price : পুজোর আগে সুখবর! টানা দুইদিন কমল সোনা-রুপোর দাম, জেনে নিন আজকের হাল
মানুষের হাতই তাকে প্রাণীকুলে বিশেষ পরিচিতি দিয়েছে। হাতের ব্যবহারই মানুষের মস্তিষ্ককে (Human Brain Development) উন্নত করেছে এবং তাকে প্রাণীকুলের সর্বোচ্চ আসনে বসিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, এই হাত মানুষের শরীরে এল কীভাবে? উত্তর খুঁজতে বহু বছর ধরে বিজ্ঞানীরা খুঁজেছেন জীবাশ্ম, মাছ এবং বিভিন্ন স্থলচর প্রাণীর ভ্রূণের ভেতরে। অবশেষে রহস্য কিছুটা হলেও ভেদ হলো।

আমেরিকার কানসাস সিটির স্টোয়ার ইনস্টিটিউটের গবেষক অরেলি হিন্টারম্যান এবং তাঁর দল (CRISPR Technology) ব্যবহার করে পরীক্ষা চালান। তাঁরা দেখতে পান, হাত বা পায়ের গঠন কোনো নতুন জিনের কারণে হয়নি। বরং আদিকাল থেকেই শরীরে থাকা কিছু জিন নিজেদের চরিত্র বদলেই এই পরিবর্তন ঘটিয়েছে। অর্থাৎ, নতুন সৃষ্টির বদলে পুরনো কাঠামোর রিমিক্স সংস্করণেই তৈরি হলো মানুষের হাত-পা।
২০১১ সালে জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী ডেনিস ডুবয়েল খুঁজে পান একটি নির্দিষ্ট জিনসেট ‘৫ডিওএম’ (5DOM Gene Set)। পরে জানা যায়, এই জিনসেট কেবল মানুষের নয়, জেব্রাফিশের (Zebrafish Genome) শরীরেও আছে। এর মানে দাঁড়াল, স্তন্যপায়ী ও মাছের পূর্বপুরুষ একই এবং বহু কোটি বছর আগে থেকেই এই জিনসেট কাজ করছে।হিন্টারম্যানরা যখন ক্রিসপিয়ার প্রযুক্তিতে জেব্রাফিশ থেকে এই জিনসেট বাদ দেন, তখন আশ্চর্যজনকভাবে দেখা গেল পাখনা স্বাভাবিকভাবে গজাচ্ছে। কিন্তু সমস্যায় পড়ে মাছের লেজের নিম্নাংশ। একই পরীক্ষা ইঁদুরের ভ্রূণে (Mouse Embryo Study) চালানো হলে দেখা গেল, শুধু শরীরের নিম্নাংশ নয়, আঙুল গঠনের ক্ষেত্রেও ‘৫ডিওএম’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। অর্থাৎ একই জিনসেট একাধিক দায়িত্ব নিচ্ছে একসময় লেজের জন্য, পরে পা ও আঙুলের জন্য।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
বিজ্ঞানীদের মতে, অন্তত ৫০ কোটি বছর আগে (Ancient Evolutionary Timeline) ‘৫ডিওএম’ মাছের লেজ গঠনে কাজে লাগত। কিন্তু ৩৬ কোটি বছর আগে মাছ যখন স্থলে পা রাখল, তখনই এর কাজের ধরণ বদলে গেল। ধীরে ধীরে একই জিনসেট মানুষের হাত-পায়ের রূপ গঠনে নেতৃত্ব দিল। হার্ভার্ডের গবেষক এম ব্রেন্ট হকিন্স এর ব্যাখ্যা দেন সংগীতের ভাষায় নতুন গান লেখা হয়নি, পুরনো গানই নতুনভাবে রিমিক্স হয়েছে। তবে এখনও পরিষ্কার নয়, কীভাবে এই বদল ঘটল। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল শুবিনের মতে, রহস্য পুরোপুরি ভেদ করতে আরও গবেষণা জরুরি।
