নিউজ পোল ব্যুরো: রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কূটনীতির পাল্টা চাল দিল নয়াদিল্লি (New Delhi) ও ওয়াশিংটন (Washington)। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউ ইয়র্কে মুখোমুখি হলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শংকর (S Jaishankar) এবং মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও (Marco Rubio)। সাম্প্রতিক ‘ভিসাবোমা’ এবং ‘শুল্কবোমা’র মতো ঘটনায় দুই দেশের সম্পর্কে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, সেই প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
হোয়াইট হাউস (White House) যখন H1B ভিসা নীতিতে পরিবর্তন এনে ভারতীয় প্রযুক্তি পেশাদারদের সামনে বড় ধাক্কা তৈরি করেছে এবং তার সঙ্গেই বেড়েছে ভিসা ফি, তখনই জয়শংকর (S Jaishankar)-রুবিওর এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। বৈঠকের পর মার্কিন বিদেশসচিবের কণ্ঠে বন্ধুত্বের সুরই যেন সেই বার্তা স্পষ্ট করে দেয়। তিনি বলেন, “ভারত আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মুক্ত ও ন্যায়সঙ্গত বাণিজ্যের প্রশ্নে ভারত-আমেরিকা একসঙ্গে কাজ করে চলবে। কোয়াড মঞ্চেও দুই দেশ পরস্পরের সহযোগী থাকবে।”
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, ফার্মাসিউটিক্যালস, শক্তিসম্পদ, বিরল খনিজ সবকিছু নিয়েই দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন মার্কিন বিদেশসচিব। তিনি বলেন, নয়াদিল্লির কূটনৈতিক পরিণতিবোধ এবং বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভারতের অবস্থান আমেরিকার কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে (New York) পৌঁছনোর পর জয়শংকর (S Jaishankar) প্রথমে ফিলিপিন্সের বিদেশমন্ত্রী থেরেসা লাজারোর সঙ্গে বৈঠক করেন। তারপরেই মার্কো রুবিওর সঙ্গে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া-চিনের (Russia China) সঙ্গে ভারতের ছবি দেখে সাময়িকভাবে সুর বদলালেও, ওয়াশিংটন এখনও ভারতের ভূ-কৌশলগত অবস্থানকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসনের হঠাৎ কড়া অবস্থানের পর কূটনৈতিক বার্তা দিতে এই জয়শংকর-রুবিও বৈঠক ছিল কার্যত ভারসাম্য রক্ষার কৌশল।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
