Amit Shah Chhattisgarh visit:ছত্তিশগড় সফরে অমিত শাহ,মাওবাদ দমন অভিযানে জোর দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী!

রাজনীতি

নিউজ পোল ব্যুরো:২০২৬ সালের মার্চের মধ্যেই মাওবাদমুক্ত ভারত গড়ার লক্ষ্য নিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah Chhattisgarh visit)। সেই লক্ষ্যপূরণের অগ্রগতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে শুক্রবার সন্ধ্যায় দু’দিনের সফরে ছত্তিশগড় পৌঁছান তিনি। রাত আটটা নাগাদ রায়পুরে নামার পর শনিবার সকালে তিনি জগদলপুরে মা দান্তেশ্বরী মন্দিরে পুজো দেন।

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/10/05/red-road-durga-puja-carnival-2025-security-traffic-update/

মন্দিরে পুজোর সময় শাহ (Amit Shah Chhattisgarh visit) বলেন, “আমি মা দান্তেশ্বরীর কাছে প্রার্থনা করেছি—নকশালবাদের অন্ধকার থেকে বস্তারকে মুক্ত করতে আমাদের নিরাপত্তাবাহিনীকে শক্তি দিন।”

দু’দিনের সফরের কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নিরাপত্তাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক, প্রশাসনিক পর্যালোচনা এবং দশেরার ঐতিহ্যবাহী ‘মুরিয়া দরদারে’ উৎসবে অংশগ্রহণ অন্তর্ভুক্ত। শনিবার বিকেলে জগদলপুরে এক জনসভায় তিনি মাওবাদীদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা দেন, “মাওবাদীদের সামনে একটাই পথ খোলা—আত্মসমর্পণ। সরকারের সঙ্গে আলোচনা নয়, অস্ত্র ছেড়ে মূলস্রোতে ফিরতে হবে।”

ছত্তিশগড়ে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মাওবাদ দমন অভিযানে গতি এসেছে। সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বস্তার অঞ্চলে নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে মৃত্যু হয়েছে ২৮৭ জন মাওবাদীর, গ্রেফতার হয়েছে হাজারেরও বেশি, এবং আত্মসমর্পণ করেছেন ৮৩৭ জন। ২০২৫ সালে অভিযান আরও তীব্র হয়েছে। গত ৯ মাসে এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে ২১০ জন মাওবাদীর, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ১৩ জন শীর্ষ নেতা, যাদের মাথার দাম ছিল ২০ লক্ষ থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত।

কেন্দ্রীয় সূত্রের দাবি, বর্তমানে ছত্তিশগড়ের জঙ্গল ও পাহাড়ে কার্যত কোণঠাসা নকশালপন্থীরা। সাধারণ সদস্য থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতৃত্ব—সব স্তরেই ভাঙন স্পষ্ট। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শাহের এই সফর শুধু প্রশাসনিক নয়, বরং মাওবাদ দমন অভিযানের “শেষ অধ্যায়ের সূচনা”।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttp://:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT

তবে সফরের লক্ষ্য শুধুমাত্র নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যক্রম পর্যালোচনা নয়। এটি মাওবাদ মোকাবিলার পাশাপাশি বস্তার অঞ্চলে উন্নয়নের আলো পৌঁছে দেওয়ার প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। অভিযানের সঙ্গে সমান্তরালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের প্রকল্প শুরু হয়েছে, যাতে মাওবাদীরা অস্ত্র ছেড়ে মূলধারায় ফিরে আসতে উৎসাহিত হন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে মাওবাদমুক্ত ভারত গড়ার এই প্রচেষ্টা শুধু নিরাপত্তা অভিযানের সাফল্য নয়, বরং দেশের জনজীবনে শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার দিকেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।