নিউজ পোল ব্যুরো: আলিপুরদুয়ারের (Alipurduar)জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান (Jaldapara National Park) বর্তমানে কার্যত বিচ্ছিন্ন অবস্থায়। প্রবল জলোচ্ছ্বাসে (Flash Flood) ভেসে গিয়েছে হলং নদীর (Hollong River) উপর কাঠের সেতু (Wooden Bridge Collapse)। চারদিন কেটে গেলেও পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। দড়ি ধরে নদী পারাপার করেই চলছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। যেন দ্বীপের মধ্যে আটকে পড়েছে মাদারিহাট সরকারি ট্যুরিস্ট লজ , নেচার ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টার (Nature Interpretation Centre) এবং বনকর্মীদের আবাসন।

সেতু ভেঙে যাওয়ার পর গোটা এলাকা কাদা ও ডলোমাইটে ঢেকে গেছে। হাঁটু সমান কাদা মাড়িয়ে কাজ চালাচ্ছেন বনকর্মী ও কর্মচারীরা। অতিরিক্ত বন্যপ্রাণী সহায়ক (Assistant Wildlife Warden – AWLW) অফিস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয় কর্মীরা মুখ খুলতে চাইছেন না, তবে তাদের দুর্দশা স্পষ্ট।
আরও পড়ুন:Weather update :ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গে, কবে মিলবে স্বস্তি জানাল হাওয়া অফিস
এখনও বন্ধ রয়েছে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের বুকিং (Tourism Booking) – অন্তত ৯ অক্টোবর পর্যন্ত কোনও পর্যটককে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। ট্যুরিস্ট লজের ৪৩ জন কর্মী, তাদের পরিবার এবং বনদফতরের অফিসাররা কার্যত দ্বীপে বন্দি। পর্যটক না আসায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় অর্থনীতি। কর্মীরা অভিযোগ তুলেছেন, সেতু পুনর্নির্মাণের জন্য দ্রুত কোনও উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। পর্যটন দফতরের (Tourism Department) এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত সরকার এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, “আমরা রিপোর্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দিয়েছি। এখন আপাতত একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা (Temporary Bridge) নেওয়া হবে, বন দফতরের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।”

ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ মনোজ টিজ্ঞা (BJP MP Manoj Tigga)। দড়ি ধরে ওপারে যাওয়ার চেষ্টা করলেও জলের প্রবল স্রোতের কারণে তিনি ব্যর্থ হন। পরে সাংবাদিকদের বলেন, “এই এলাকায় যত দ্রুত সম্ভব নতুন ব্রিজ (Permanent Bridge Construction) তৈরি করা প্রয়োজন। বন দফতর ও পর্যটন দফতরের দ্বন্দ্বে কাজ আটকে থাকা উচিত নয়। পর্যটনই মাদারিহাটের (Madarihat Tourism) প্রধান আয়ের উৎস।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
কবে নতুন সেতু তৈরি হবে, কবে আবার পর্যটকরা জলদাপাড়া ও হলংয়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন— সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি। এর মধ্যে বনকর্মী ও কর্মীরা দড়ি ধরে প্রাণ হাতে করে নদী পারাপার করছেন, আর একপ্রকার দ্বীপবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন আলিপুরদুয়ারের এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রে।
