Kashmir: কাশ্মীরে তুষারঝড়েও পিছু হটেননি দুই বাঙালি বীর, শহিদ হলেন পলাশ ও সুজয়

রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: ষষ্ঠীর সকালটা ছিল একেবারে সাধারণ। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার উদ্দেশ্যে টোটো ধরে বাড়ি থেকে রওনা দিয়েছিলেন প্যারা কমান্ডো পলাশ ঘোষ। পাশে ছিলেন দাদা মৃগাঙ্ক ঘোষ। কেউ কল্পনাও করেনি, এটাই হবে দুই ভাইয়ের শেষ দেখা। একইভাবে দক্ষিণ কাশ্মীরের (Kashmir) অনন্তনাগে অভিযানে যাওয়ার আগে শেষবার ফোনে দাদাকে জানিয়ে গিয়েছিলেন আরেক বাঙালি যোদ্ধা, সুজয় ঘোষ “কয়েকদিন যোগাযোগ হবে না।” সেই কথাটাই হয়ে উঠল চির বিদায়ের সুর।

আরও পড়ুন: Barasat Kalipuja 2025:বারাসতের কালীপুজো ঘিরে কড়া ট্রাফিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা, চারদিন নো-এন্ট্রি জাতীয় সড়কে

বুধবার অনন্তনাগ (Kashmir) জেলার গাদুল এলাকায় জঙ্গি দমন অভিযানে অংশ নেন সেনার বিশেষ বাহিনী। সেখানেই তুষারঝড়ের মধ্যে নিখোঁজ হয়ে যান প্যারা স্পেশাল ফোর্সের দুই সদস্য ল্যান্স হাবিলদার পলাশ ঘোষ (৩৮) ও ল্যান্স নায়ক সুজয় ঘোষ (২৮)। শুরু হয় তল্লাশি। বরফে ঢাকা অবস্থায় উদ্ধার করা হয় পলাশকে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। তবে শেষরক্ষা হয়নি। মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে হার মানেন তিনিও। একইসঙ্গে খোঁজ মেলে না সুজয়েরও। শুক্রবার সেনার তরফে খবর আসে তিনি আর নেই।

পলাশ ঘোষ ছিলেন নদিয়ার শান্তিপুরের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরেই প্যারা স্পেশাল ফোর্সে কর্মরত। তাঁর পরিবারে রয়েছেন বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী এবং দুই কন্যা সন্তান। ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে ভেঙে পড়েছেন দাদা মৃগাঙ্ক। “বাড়ি থেকে এগিয়ে দিয়ে বলেছিলাম, ভালো করে কাজ করে ফিরিস। কে জানত এটাই শেষবার,” বলছেন তিনি।

অন্যদিকে, বীরভূমের রাজনগরের কুন্ডিরা গ্রামের সন্তান সুজয় ঘোষ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন ২০১৮ সালে। কৃষক পরিবারে জন্ম সুজয়ের। দাদার সঙ্গেই থাকতেন বাড়িতে। ছোটবেলা থেকেই সেনা হওয়ার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন পূরণ করলেও, বেঁচে ফেরা হল না এই সাহসী প্যারা কমান্ডোর। কাশ্মীরের (Kashmir) ভয়ঙ্কর ঠান্ডা, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং বিপজ্জনক অপারেশনের মধ্যেও এক মুহূর্তের জন্যও পিছিয়ে আসেননি বাংলার এই দুই বীর সন্তান। নিজের প্রাণের বিনিময়ে দেশরক্ষার শপথে অটল ছিলেন তারা।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole