নিউজ পোল ব্যুরো: গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমেরিকার (America). মদদপুষ্ট ভূমিকার প্রতিবাদে উত্তাল পাকিস্তান (Pakistan,)। এর মাঝেই ‘আমেরিকার পুতুল’ আখ্যা পাওয়া শাহবাজ শরিফ সরকারের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে কট্টরপন্থী ইসলামি দল ‘তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান’ (TLP)। ইসলামাবাদের (Islamabaad) পর এবার সহিংসতার কেন্দ্রবিন্দুতে মুরিদকে।
সোমবার ভোরে মুরিদকে শহরে ব্যাপক সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৩ জন বিক্ষোভকারী পুলিশের গুলিতে নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫০ জন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ইসলামাবাদের দিকে বড় মিছিল এগোচ্ছিল, যার রুট কেটে দিতে পুলিশ রাস্তা অবরোধ করে এবং আচমকা গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগুনও লাগানো হয় বেশ কয়েকটি স্থানে। বিক্ষোভকারীরা প্রাণ বাঁচাতে ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন।
শনিবার ইসলামাবাদে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় ১১ জনের। রাওয়ালপিণ্ডিতেও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। এভাবে মাত্র তিনদিনে প্রাণ হারালেন ২৪ জনের বেশি সরকারবিরোধী আন্দোলনকারী। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় এই সহিংসতার পর থেকে টিএলপি প্রধান সাদ রিজভের কোনো খোঁজ মিলছে না। তার আটক হওয়ার আশঙ্কা ঘনীভূত হলেও সরকার বা নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য আসেনি।
টিএলপি অভিযোগ করেছে, পাকিস্তান (Pakistan) সরকার ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে কথা না বলে আমেরিকার ইশারায় চলছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাস ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছিল তারা। পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করে রাজধানী ইসলামাবাদের ‘রেড জোন’ এলাকায় নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কড়া নজরদারির মধ্যে রয়েছে লাহোর, করাচি ও পেশোয়ারের মার্কিন দূতাবাসগুলোও।
পাকিস্তানে (Pakistan) এই মুহূর্তে সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ যতটা, ততটাই স্পষ্ট দমননীতির নির্মম রূপও। শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের (Asim Munir) কঠোর পদক্ষেপ দেশজুড়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, এই দমননীতি কি বিক্ষোভ থামাবে, না আরও ঘনীভূত করবে সংকট?
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
