Clay lamp: মাটির প্রদীপের ছোট্ট আলোয় জ্বলে জীবন প্রদীপ।

breakingnews অফবিট জেলা

শ্যামল নন্দীঃ মাটির প্রদীপে…(clay lamp) । এক অসাধারণ মৃৎ শিল্প। আর তা যখন কিছু অসহায় মানুষের বলা ভাল শিশুদের রুটির সহায়ক হয়ে ওঠে তখন বিষয়টি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া যায়না, একটাই কারণে– মানুষ মানুষের জন্য। শুধু এই প্রয়োজনটুকুর উল্লেখ করা অত্যাবশ্যক খাঁটি মাটি যেমন দুর্লভ, তেমনি প্রতিযোগিতার বাজারে ভাল প্রদীপের বাজার পাওয়া আরও কঠিন। তবু জীবন -জীবিকার তাগিদে উত্তর ২৪ পরগণা ,নদীয়া- বাংলার এই দুই জেলার মাটিতে মৃৎ শিল্প সহজে প্রাণ পায়।
এবার বলতে হয় “কিন্তু” দিতে হয় তার ব্যাখ্যা। খুব সাধারণ সে কারণ। যে বৃষ্টি সদ্য বিদায় নিয়েছে সেই বারিষ ধারার অতি প্রকোপে অন্যান্য অনেক জেলার সাথে নদীয়া, উত্তর ২৪ পরগণা জেলার মাটিও অতি সিক্ত হয়েছে। যে আবহাওয়ায় মাটির জিনিস(clay lamp) সহজে বিক্রি উপযোগী হয়ে মৃৎ শিল্পের মৃতপ্রায় দশা থেকে উদ্ধার করার সহজতর পরিবেশ পায়, তা বস্তুত অপ্রতুল হয়েছে এবছর। ফলে কপালে চিন্তার বলিরেখা আরও বেশি ভাঁজ হয়েছে। মহাপূজার আগে হিন্দুদের ১৪ প্রদীপের যে চল আছে সেই সামান্য চাহিদার বাজারও বুঝি হাতছাড়া হয়। এমনিতেই বর্তমান সময়ের গতির সঙ্গে তাল মেলানোর ছন্দে এক ধরনের চৈনিক প্রদীপের প্রচলন হয়েছে, যেখানে মাটির প্রদীপকে কোণঠাসা করতে কেরোসিন শিখার প্রয়োজন পড়েনা! চাকদহ ব্লকের চাদুরিয়া এলাকার বিভিন্ন গ্রামে কুম্ভকার পরিবার রয়েছেন। যারা বংশানুক্রমে অসাধারণ মাটির প্রদীপ বানিয়ে আসছেন।

[আরও পড়ুন] http://TET বাতিলের দাবিতে BPTA আন্দোলনের পথে
পাশাপাশি, উত্তর ২৪ পরগণা জেলার দত্তপুকুর এই শিল্পের ধারক-বাহকের দায়িত্ব নিয়েছে। যদিও এখানকার ভরসার বাজার যেমন বিস্তৃত। তেমনি বহুমুখি এখানকার মৃৎ শিল্পের ব্যাপ্তি। শুধুমাত্র প্রদীপ তৈরির ওপর এঁরা নির্ভর করেনা।
কিন্তু যারা কয়েক বছর ধরে হাসি মুখে কাজ করার আনন্দে মায়ের পুজোর আগের এই একদিনের চাহিদাকে সামনে রেখে মেতে ওঠে সৃষ্টি সুখের উল্লাসে তাদের বসবাস বারাসত হৃদয়পুর এলাকায়। সত্যি কথা বলতে কি, হৃদয়পুর সৃজা (Hridaypur Srija)নামক এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অধীনে আশ্রয় পাওয়া প্রচুর নির্মল বাচ্চার রুটির জোগানের দিকে তাকিয়ে আপনি যখন প্রদীপে আলোক শিখার রশ্মি হয়ে উঠবেন, রক্তদানের আনন্দের মতই একটা খুশির উচ্ছ্বাস আপনার মনকে রাঙিয়ে দিয়ে যাবে। মনে হবে এই তো ধনতেরাসের সঞ্চয়। শুধু মাটির প্রদীপই না, বছরভর জীবন আর শিক্ষা তার সঙ্গে বেঁচে থাকার দৈনন্দিন যাবতীয় রসদ জোগাতে আরও অনেক ক্ষুদ্র শিল্পের উৎপাদনে জড়িত Hridaypur Srija। যেমন ডালের বড়ি, নারকেলের নাড়ু ইত্যাদি। আপাতত অবশ্য অবশ্য মাটির প্রদীপের ভাল বিক্রির দিকে তাকিয়ে আছেন এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত সকল মানব সন্তান। মা যেন সকলকেই ভাল রাখেন, এই প্রার্থনা।