Fighter Jet: দেশেই যুদ্ধবিমান চালাবে দেশি ইঞ্জিন, আত্মনির্ভর ভারতের জ্বালানি এখন দেশজ প্রযুক্তি

Uncategorized দেশ রাজনীতি

নিউজ পোল ব্যুরো: নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) ‘আত্মনির্ভরতা’ অভিমানকে দৃঢ় ভিত্তি দিতে ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) একটি বিশাল প্রকল্প গ্রহণ করেছে। দেশেই যুদ্ধবিমানের (Fighter Jet) জেট ইঞ্জিন তৈরি ও বাণিজ্যিক উৎপাদন সক্ষম করার জন্য প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের (Fighter Jet) জন্য উপযোগী ইঞ্জিন ডিজাইন, পরীক্ষা ও স্থানীয়ভাবে বড় আকারে উৎপাদন শুরু নিশ্চিত করা—ফলে দীর্ঘকালীন বিদেশ-নির্ভরতা কমে যাবে এবং সামরিক সক্ষমতার স্বাধীনতা বাড়বে।

আরও পড়ুন: Pakistan attack Afghanistan : পাকিস্তানের হামলার জের। ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে সরে দাঁড়াল আফগানিস্তান

ডিআরডিওর (DRDO) শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রাক্কলনে তেজসসহ মোট প্রায় ১১০০টি যুদ্ধবিমানের জন্য নতুন ইঞ্জিনের চাহিদা রয়েছে; তাই প্রযুক্তি বিকাশের পাশাপাশি উৎপাদন-শৃঙ্খল গড়ে তোলা এখন অগ্রাধিকার। সম্প্রতি প্রকাশিত পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, দেশীয় ইঞ্জিন তৈরির কাজ শুধুই প্রযুক্তিগত অর্জন নয়; এটি এক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উদ্যোগ, যা রফতানি সম্ভাবনাও তৈরি করবে এবং প্রতিরক্ষা সরবরাহশৃঙ্খলকে বহুমাত্রিক করবে। প্রধানমন্ত্রীর ১৫ই আগস্টের স্বাধীনতা দিবসের ঘোষণা অনুযায়ী জেট ইঞ্জিন (Fighter Jet) তৈরিতে নিজস্ব দক্ষতা অর্জন ভারতীয় প্রতিরক্ষা নীতির একটি কেন্দ্রীয় স্তম্ভ হিসেবে দাঁড়াচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক স্থল, বায়ু ও সমুদ্র তিন বাহিনীতেই আধুনিকায়নকে ত্বরান্বিত করছে।

সেই ধারার অংশ হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে উন্নত মানের শস্ত্র ক্রয়ের বন্ধোবস্তও হয়েছে, যার মধ্যে নাইট সাইটসহ উচ্চমাত্রার রাইফেল সম্ভার স্থান পেয়েছে। নতুন জেট ইঞ্জিন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, উচ্চমানের উপকরণ সরবরাহ এবং মান নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলোর প্রতি মনোযোগ দিতে হবে। তবে সফল হলে এটি কেবল সামরিক সক্ষমতা বাড়াবে না, দেশীয় মেধা ও শিল্পকে শক্তিশালী করে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দাঁড় করাবে। তাই এই উদ্যোগকে কৌশলগত স্বাধীনতার জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভারতকে ভবিষ্যতে স্বনির্ভর প্রতিরক্ষা উৎপাদনে স্থায়ী অবস্থান এনে দেবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় মেইনটেন্যান্স ও সার্ভিসিং স্টেশন গড়ে উঠবে, যা বিমানবাহিনীর অপারেশনাল সচলতা বৃদ্ধি করবে এবং রক্ষণাবেক্ষণের ওপর বিদেশি নির্ভরতা কমাবে। প্রযুক্তি হস্তান্তর, গবেষণা সংযুক্ততা ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে ডিআরডিওর পাশাপাশি শিল্প, একাডেমিয়া ও বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি উন্নত মানের উপাদান ও পরীক্ষণ সুবিধা গড়ে তোলার মাধ্যমে ব্যাপক সরবরাহশৃঙ্খল তৈরির পরিকল্পনা রাখা হচ্ছে, যা লক্ষ্যে পৌঁছাতে স্থানীয় সরবরাহকারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। অর্থনৈতিক দিক থেকে এটি আয় ও কর্মসংস্থান উভয়ই বাড়াবে এবং প্রতিরক্ষা খাতে আয়াত্মক বিনিয়োগে উৎসাহ যোগাবে।

দীর্ঘমেয়াদে ভারত কেবল নিজস্ব চাহিদা মেটাবে না, উপযুক্ত হলে এই ইঞ্জিন রফতানি করে আন্তর্জাতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ও অংশ নিতে পারবে। সব মিলিয়ে এই উদ্যোগকে দেশের সুরক্ষা ও শিল্পনীতির জন্য একটি মাইলফলক ধরা হচ্ছে। সমন্বিত প্রয়াস, টেকসই পরিকল্পনা ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনাই দেখাবে প্রকৃত ফলাফল ফলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিরাপদ থাকবে। এটি জাতীয় সক্ষমতায় এক অনন্য অর্জন। নিশ্চিত।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole