নিউজ পোল ব্যুরো: বাঙালির (Bengali Culture) জীবনে উৎসব মানেই আনন্দ, মিলন আর ভক্তির এক অপূর্ব মেলবন্ধন। “বারো মাসে তেরো পার্বণ” এই প্রবাদ যেন সবচেয়ে বেশি মানায় এই জাতির ক্ষেত্রেই। দুর্গাপুজো (Durga Puja), লক্ষ্মীপুজো (Laxmi Puja), কালীপুজো (Kali Puja) ও ভাইফোঁটা (Bhai Phonta) শেষ হতেই যে উৎসবের অপেক্ষায় থাকে গোটা বাংলা, তা হল জগদ্ধাত্রী পুজো (Jagaddhatri Puja)। দেবী পার্বতীর (Goddess Parvati) অপরূপ এক রূপ হলেন জগদ্ধাত্রী যিনি জগতের ধাত্রী, অর্থাৎ ধারণ কর্তা ও সৃষ্টির রক্ষক। উপনিষদে তাকে “উমা হৈমবতী” নামে উল্লেখ করা হয়েছে, আবার তন্ত্র ও পুরাণে (Tantra and Puranas) দেবীর মহিমা নানা রূপে বর্ণিত হয়েছে।
বাংলায় জগদ্ধাত্রী পূজার (Jagaddhatri Festival) ঐতিহ্য বহু প্রাচীন। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগর (Krishnanagar) ও হুগলি জেলার চন্দননগর (Chandannagar) এই উৎসবের জন্য জগদ্বিখ্যাত। বিশাল প্রতিমা, আলোকসজ্জা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ভক্তদের ঢল সব মিলিয়ে এই পুজো এক অনন্য সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। দেবীকে সিংহবাহিনী, হাতের মধ্যে শঙ্খ, চক্র, ধনুক ও বাণ সহ সজ্জিত অবস্থায় দেখা যায়। এই রূপটি শক্তির প্রতীক, যিনি অসুর বিনাশ করে ধর্ম ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা করেন।

https://www.facebook.com/share/r/1Grpy2Ta4s/
আজ মহাঅষ্টমী (Maha Ashtami)। প্রতি বছরের মতো এবারও উমেদপুর (Umedpur) গ্রামে, যা দক্ষিণ ২৪ পরগনা (South 24 Parganas) জেলার অন্তর্গত এবং স্থানীয়দের কাছে গোলবাড়ি কাটাবটতলা (Golbari Katabatatla) নামে পরিচিত, সেখানকার বাসিন্দারা ভক্তির আবহে মাতোয়ারা। প্রায় ২৫ বছর ধরে এখানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই জগদ্ধাত্রী পুজো। স্থানীয় মানুষ থেকে শুরু করে পার্শ্ববর্তী এলাকার ভক্তরাও উপস্থিত হন দেবী দর্শনে। পুজোর আয়োজন ঘিরে তৈরি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ ঢাকের বাদ্যি, আলোকসজ্জা, আরতি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সব মিলিয়ে গ্রাম যেন পরিণত হয় এক পবিত্র তীর্থক্ষেত্রে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
এই পুজোর বিশেষত্ব হল স্থানীয়দের একতা ও অংশগ্রহণ। নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ, শিশু সকলে মিলে দেবী আরাধনায় নিজেদের যুক্ত করেন। পুজোর দিনগুলিতে গ্রামে বসে মেলা, স্থানীয় হস্তশিল্প ও খাবারের দোকান। উৎসবের আনন্দে ভরে ওঠে প্রত্যেকের মন। জগদ্ধাত্রী পূজা (Jagadhatri Puja 2025) শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ভক্তির এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। দেবীর কাছে সকলের একটাই প্রার্থনা জগতে শান্তি, ঐক্য ও মঙ্গল প্রতিষ্ঠা হোক।
